বেজিং: চিন থেকে সূত্রপাত হয়েছিল করোনাভাইরাসের। চিনের উহান পেরিয়ে এখন বিশ্বের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে সেই মারন ভাইরাস। যার সঙ্গে লড়াই করতে রীতিমত বেগ পেতে হচ্ছে তাবড় দেশকে। এমনকি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী, রাজ পরিবারের অন্যতম সদস্য প্রিন্স চার্লস পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে সেই চিন থেকে সাহায্য এল ভারতে।

ভারত যখন করোনার সঙ্গে লড়াই করছে তখন চিনের জ্যাক মা ফাউন্ডেশন ও আলিবাবা ফাউন্ডেশন থেকে এল একগুচ্ছ জিনিস। সেখান থেকে ভারতের রেডক্রস সোসাইটিতে জিনিসগুলি এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাস্ক ও পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট। রয়েছে ভেন্টিলেটার।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লাভ আগরওয়াল এই খবর জানিয়েছেন। শনিবার চিন থেকে ভারতে ওই জিনিসগুলি এসেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যখন করোনার সঙ্গে লড়াই করছিল তখন ভারত থেকে এভাবেই সাহায্য গিয়েছিল চিনে। প্রায় ১৫ টন চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হয়েছিল সে দেশে।

ভারত থেকে পাঠানো জিনিস এর মধ্যে ছিল এক লক্ষ্য সার্জিকাল মাস্ক। ৫ লক্ষ জোড়া সার্জিক্যাল গ্লাভস, ৭৫ টি ইনফিউশন পাম্প, ৩০ টি এক্সটার্নাল ফিটিং পাম্প, চার হাজার n95 মাস্ক।

সব মিলিয়ে ২.১১ কোটি টাকার জিনিস পাঠানো হয়েছিল ভারত থেকে। ভারতীয় বায়ুসেনার C73 বিমানে ওই জিনিস গুলো পাঠানো হয়। ওই বিমানেই উহান থেকে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছিল।

ইতিমধ্যেই মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। এক দেশ থেকে অন্য দেশে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর ভাবে। করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজারেও বেশি মানুষের। আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক লক্ষ। যত দিন এগোচ্ছে তত পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। চিনের উহান থেকে জন্ম নেওয়া এই ভাইরাস এখন পৃথিবীর সর্বত্রই হানা দিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই ভাইরাসের কোন শেষ নেই। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক দিকে যাচ্ছে।

ইতালি, ইরান, স্পেন সহ ইউরোপের একাধিক দেশে করোনায় কার্যত বিধ্বস্ত জনজীবন। সর্বত্রই গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দিচ্ছে প্রশাসন। মহামারী আখ্যা দিয়ে করোনা মোকাবিলায় নেমেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। হু-র তরফে প্রচার করা হচ্ছে স্বাস্থ্য সতর্কতা। বিশ্বব্যাঙ্কও আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে। করোনা আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত। আর এরই মধ্যে ‘জিওপলিটিক্স অ্যান্ড এমপায়ার’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অধ্যাপক ফ্রান্সিস বয়েলের বিস্ফোরক দাবি করেছেন।

তাঁর দাবি ‘করোনা আসলে চিন নির্মিত একটি জৈব অস্ত্র এবং যা তৈরি হয়েছে বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবরেটরিতে।’ তাঁর আরও দাবি, চিনের এই জৈব অস্ত্র নির্মাণের খবর অজানা নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও।