বেজিংঃ  লাগাতার ভারী বৃষ্টি। আর এই ভারী বৃষ্টির কারণে চিনের বিস্তির্ন অঞ্চল জুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে বেশির ভাগ নদী। লাগাতার ভারী বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে ক্রমশ বাড়ছে সে দেশে মৃতের সংখ্যা। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত ৬১ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু গাছ-বাড়ি। আশ্রয়হীন বহু মানুষ।

যদিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন চিনের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা। তবে এভাবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ ব্যহত হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সেভাবে উদ্ধার কাজ চালানো যাবে না। ফলে সমস্যা আরও বাড়বে।

অন্যদিকে চিনের সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে এখনও পর্যন্ত। তবে আরও ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে যে ভয়াবহ এই বন্যায় ৯ হাজার ৩০০টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন তিন লাখ ৫৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। যদিও বন্যায় আটকে পড়া সাড়ে চার হাজার মানুষকে উদ্ধার করার কথা জানানো হয়েছে।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত বহু মানুষ আটকে পড়ে রয়েছে বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ চলছে। কিন্তু সমস্যা একটাই। আর তা হল ভারী বৃষ্টিপাত। বৃষ্টি কমলেই পুরোদমে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ভয়ঙ্কর বন্যায় ৩৭ লাখ হেক্টরের বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, কমিউনিস্ট চিনে অদ্ভুদ ধরণের প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা। আবহাওয়াবীদরা বলছেন, বেজিংয়ে গ্রীষ্মের সময় উত্তরে ব্যাপক খরা’র আকার নেয়। আর দক্ষিণে নিয়মিতই বন্যা হয়। প্রত্যেক বছর যার ভয়ঙ্কর ফল ভোগ করতে হয় বেজিংয়ের মানুষকে। অন্যদিকে চিনের সরকারের ইতিমধ্যে এক আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, চলতি বছর উত্তরাঞ্চলে আগের চেয়েও কম বৃষ্টিপাত হবে। দক্ষিণের ইয়োলো নদীর উজানে বন্যার ঝুঁকি বেশি থাকবে। যদিও এখন থেকেই সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের তরফে সেখানকার মানুষকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।