বেজিং: পাকিস্তানের দিকে আঙুল তোলা একেবারেই উচিৎ নয়। বন্ধু-পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলা? এভাবেই পাশে দাঁড়াল বেজিং। ফের একবার পাকিস্তানকে আগলে রাখল চিন। একটা নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে কখনই সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলা যায় না, এমনটাই দাবি চিনের।

পয়লা জানুয়ারি ট্রাম্পের ট্যুইট প্রকাশ্যে আসার পরই কার্যত ভেঙে পড়েছে পাকিস্তান। আর চিন বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লু কাং এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘চিন সবসময়ই কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলায় আপত্তি জানিয়েছে। আর সন্ত্রাস দমনের দায়ভারও কারো একার নয়। ‘

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয় যে, আমেরিকা আশা করছে সন্ত্রাস দমনে এগিয়ে যেতে চিন হয়ত আমেরিকাকে বোঝাবে। কিন্তু, সেগুড়ে বালি। এদিন সেই প্রসঙ্গেই চিনা প্রতিনিধি জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি যে সন্ত্রাস রুখতে পাকিস্তান অনেক স্বার্থত্যাগ করেছে।’ তাঁর মতে, অপরের বিরুদ্ধে আঙুল না তুলে যৌথভাবে সন্ত্রাস দমনের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ।

এর আগেও ট্রাম্পের অপমানের মুখে জবাব দিয়ে পাকিস্তানের গুণগান গাইতে শোনা গিয়েছে চিনকে। চিনের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকা অনবদ্য, তাদের ভূমিকা তারিফ করার মত, প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য৷ চিনের তরফ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিশ্বের প্রতিটি দেশের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এই লড়াইকে স্বীকৃতি দেওয়া৷

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের লড়াই অত্যন্ত প্রশাংসনীয়৷ তিনি এই লড়াইকে ‘Outstanding Contribution’ বলেও অভিহিত করেন৷ গেং শুয়াং বলেন, গোটা বিশ্বের উচিত পাকিস্তানকে সম্মান দেওয়া, স্বীকৃতি দেওয়া৷ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহায়তা চুক্তিকে সম্মান ও মান্যতা দেয়, তাই পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক ভালো৷ চিন ইতিমধ্যেই পাকিস্তানকে ৫০ বিলিয়ান ডলার আর্থিক সাহায্য করেছে তাদের চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য৷

গত ১ জানুয়ারি এক ট্যুইটে ট্রাম্প লেখেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে সন্ত্রাস দমনের নামে আমেরিকার কাছে অর্থ নিয়ে ঠকিয়েছে পাকিস্তান৷ আমাদের থেকে ৩৩০০ কোটি ডলার নিয়েছে৷ অথচ বিনিময়ে ঝুড়ি-ঝুড়ি মিথ্যে কথা বলা ছাড়া কিছুই করেনি৷’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের স্বর্গ বলেও অভিহিত করেন৷ প্রেসিডেন্টের এই ক্ষোভের পরই পাকিস্তানকে ২৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা আপাতত আটকে দিয়েছে আমেরিকা৷