বেজিংঃ  গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা আক্রান্ত। একের পর এক দেশে মহামারীর মতো অবস্থা। ক্রমশ মৃত্যু মিছিল। যদিও যে শহর থেকে করোনা ভাইরাস তৈরি হয়েছিল সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র বলছে নতুন করে চিনের উদ্বেগ বাড়ছে। জানা যাচ্ছে, চিনে করোনা সংক্রমণ কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের ৩ থেকে ১০ শতাংশ ফের করোনা পজিটিভ। হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর পরীক্ষা করে তাঁদের শরীরে করোনার জীবাণু ধরা পড়েছে। আর তা এখন যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিনের উহান শহর ছিল করোনা ভাইরাসের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার টোংজি হাসপাতালের চিকিৎসকরা খুব কাছ থেকে দেখেছেন করোনা জীবাণুর চরিত্র বদল। টোংজি হাসপাতাল জানিয়েছে, নিউক্লিয়ার অ্যাসিড টেস্টে দেখা যাচ্ছে, ১৪৭ জন রোগীর মধ্যে ৫ জন- অর্থাৎ ৩ থেকে ৫ শতাংশ সেরে ওঠা রোগী ফের করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। যদিও তাঁদের শরীরে কোনও উপসর্গ ছিল না, তাঁদের সংস্পর্শে থাকা কারও শরীরে এই রোগ ছড়ায়নি এখনও পর্যন্ত। তাও সবাইকে সাবধানে থাকতয়ে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, চিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮১,০০০ পেরিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ৩,২০০-এর বেশি। সংক্রমিত ৯০ শতাংশের বেশি রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, ৪,৩০০-র মত রোগীর এখনও চিকিৎসা চলছে। কিন্তু এই পরিস্থতিতে নতুন করে সংক্রমণ ভাবাচ্ছে সে দেশের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের।

তবে এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে করোনা ভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষনা চলছে। গবেষকরা খতিয়ে দেখছেন যে, করোনা রোগীরা সেরে ওঠার পর ফের তাঁদের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা আছে, না তাঁদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, যা আগামীদিনে আটকে দেবে করোনাকে। টোংজি হাসপাতালের চিকিৎসকরাই প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ চিহ্নিত করেন। অন্য দেশের তুলনায় চিনে রোগীরা অনেক বেশি সংখ্যায় সেরে ওঠায় তাঁদের গবেষণা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ওয়াং এই বলেছেন, হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ১ মাস পর ৮০-৯০% রোগীর শরীরে করোনা সংক্রমণ মেলেনি। যদিও তাঁর মতে, খুব অল্প কয়েকজনের মধ্যে পরীক্ষা চলেছে, তাই তাঁদের অনুসন্ধান চূড়ান্ত কিনা তা বোঝার সময় এখনও হয়ে ওঠেনি। ইউহানের অন্যান্য হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের ৫-১০ শতাংশ রোগী সেরে ওঠার পরেও ফের করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।