বেজিং ও তেহরান: চিন যদি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে মৃত্যুপুরী হয় তাহলে সেই নিরিখে দ্বিতীয় স্থানটি হতে চলছে ইরান ও ইতালি। এশিয়া ও ইউরোপে ভয়াবহ আকার নেওয়া মারণ ভাইরাসের ভয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে। বিবিসি ও চিনা সংবাদ সংস্থা জিনহুয়ার খবর, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত মোট ২৭৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজার ৯৭০ জন। চিনে মারা গেছেন ২৭১৫ জন। এখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৬৪ জন। চিনা জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানাচ্ছে মঙ্গলবার নতুন করে ৪০৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

আল জাজিরা ও রেডিও তেহরানের খবর, চিনের পরেই করোনাভাইরাসে সব থেকে বেশি মৃত্যু হচ্ছে ইরানে। ইতিমধ্যেই ১৬ জনের মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়েছে। ইরানের উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ইরানের পরিস্থিতি দেখে সংলগ্ন সবকটি দেশ তাদের সীমাম্ত বন্ধ করছে। আরব দুনিয়ায় প্রবল আতঙ্ক। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি জানিয়েছেন, সরকার এই ভাইরাস প্রতিরোধ করতে তৎপর।

বিবিসি জানাচ্ছে, ইরানের পরেই সর্বাধিক করোনাভাইরাস সংক্রামিত দেশ হল দক্ষিণ কোরিয়া। চিনের নিকটবর্তী এই দেশে ১১ জনের মৃত্যুর সংবাদ এসেছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু কূটনীতিকের যুক্তি প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াতে করোনাভাইরাস ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

কিন্তু কিম জং উনের সরকার সেটি গোপন করছে। তাঁদের দাবি, উত্তর কোরিয়া ও চিনের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। কিম সরকার সীমান্ত বন্ধ সংক্রান্ত কোনও বার্তা দেননি। ফলে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন সব মহলে। এমনকি চিন সরকারও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ নিয়ে কিছুই জানায়নি। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, চিনের বাইরে অন্তত ৩০টি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। এই সংক্রমণ এতদিন চিন সহ এশিয়াতেই তাণ্ডব দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই অদৃশ্য হানাদার এবার ইউরোর ও মধ্য এশিয়ায় তার আক্রমণ শুরু করেছে। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।

চিন, ইরানের মতো ভয়াবহ করোনভাইরাসের ছোবল খেতে শুরু করেছে ইতালি। এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এই দেশে।আক্রান্ত হয়েছেন ৩২৩ জন। ইতালির জনপ্রিয়, আন্তর্জাতিক পরিচিত শহর মিলান এবং ভেনিস শহর সংলগ্ন দুটি এলাকাকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভেনেতো এবং লোম্বার্ডি অঞ্চলের একাধিক শহর লকডাউন।

ভাইরাস আতঙ্কে ইতালির বহু স্কুল ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ। বাতিল ইতালির কার্নিভাল । এছাড়া জাপানে ৫ জন, হংকংয়ে ২ জন, ফিলিপাইন্সে ১ জন, ফ্রান্সে ১ জন ও তাইওয়ানে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, চিন সংলগ্ন ১৪টি দেশে এখনও তেমন ছড়ায়নি এই ভাইরাস। কিন্তু দূরবর্তী দেশগুলিতে ভয়াবহ অবস্থা।