নিউ ইয়র্ক: ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরে ঘটা মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড জাকিউর রহমান লাকভিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হয়েছিল ভারত৷ কিন্তু বাগড়া দিল পাকিস্তানের সব ঋতুর বন্ধু লালচিন৷
ভারতের বক্তব্য হল, জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবার কমান্ডার লকভির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরেও পাক আদালতে জামিনে ছাড়া পেয়েছে লকভি৷ যা রাষ্ট্রসংঘে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গৃহীত প্রস্তাবের পরিপন্থী৷ এ কারণেই রাষ্ট্রসংঘের কাছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় ভারত সরকার৷ ভারতের এই আরজি বিবেচনা করতে আলোচনায় বসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কমিটি৷ কিন্তু সেখানেই বাধা দেয় রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চিন৷ তাদের বক্তব্য, এই ইস্যুতে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করেনি ভারত৷

লাকভির মুক্তি রাষ্ট্রসংঘের ১২৬৭ নম্বর প্রস্তাবের পরিপন্থী বলে সেখানে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি অশোক মুখোপাধ্যায় নিষেধাজ্ঞা কমিটির চেয়ারম্যান জিম মেকলেকে চিঠি পাঠান৷ রাষ্ট্রসংঘে অনুমোদিত প্রস্তাব অনুসারে সমস্ত সদস্য দেশের তরফেই লস্কর-ই-তোইবা ও আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত কালো তালিকাভুক্ত যাবতীয় ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার কথা৷ না করলে সেইসব দেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘ একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে৷ সাধারণ সভায় গৃহীত সেই প্রস্তাব মাথায় রেখেই ভারত লাকভি ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের শরণাপন্ন হয়েছিল৷কিন্তু ভারতের সেই প্রয়াস যথারীতি ‘শুঁড়ির সাক্ষী মাতাল’ হয়ে বানচাল করল চিন৷

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল ২৬/১১-র  অন্যতম চক্রী জাকিউর রহমান লাকভির জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে পাক আদালত৷ যার তীব্র বিরোধিতা করে ভারত৷ পাক আদালতের এই রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স এবং জার্মানিও৷

২০০৮-এর ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় লাকভি সহ আরও ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে পাকিস্তানের আদালতে৷ ২০০৮-এর ডিসেম্বর মাসে গ্রেফতার হয় লাকভি৷কিন্তু জামিন পাওয়ার পর থেকেই ভারতের আশঙ্কা সত্য প্রমাণ করে সে গায়েব হয়ে গিয়েছে৷