নয়াদিল্লি: ভারতের দেখানো পথেই হাঁটছে চিন। ২৯শে জুন রাতারাতি ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরে এবার চিন বন্ধ করল উইঅন ওয়েবসাইটের অ্যাকসেস। এবার থেকে চিনে এই ভারতীয় ওয়েবসাইট দেখা যাবে না বলে দাবি বেজিংয়ের।

সাম্প্রতিক কালে ভারত-চিন সংঘর্ষের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই দেশই একে অপরের চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরই মাঝে রাতারাতি ৫৯টি চিনা অ্যাপ বাতিল ঘোষণা করে ডিজিটাল স্ট্রাইক ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সেই পথে হেঁটেই এবার মেনল্যান্ড চায়নাতে www.wionews.com অ্যাকসেস বন্ধ করে দেওয়া হল। চিনা ইন্টারনেট মনিটরিং সংস্থা GreatFire.org জানাচ্ছে চিনে এই ওয়েবসাইটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেভাবে এই ওয়েবসাইট লাদাখে চিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছিল, তাতে ক্ষুব্ধ হয় বেজিং। এরপরেই নাকি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওয়েবসাইটের অ্যাকসেস বন্ধ করে এমনই সাফাই দিয়েছে চিন সরকার।

মার্চ মাসেই চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডে ট্যুইটার থেকে ব্লক করা হয়েছে উইঅন ওয়েবসাইটকে। ভারতে চিনা রাষ্ট্রদূতরাও এই ওয়েবসাইটের চিন বিরোধী কনটেন্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। শুধু লাদাখে ভারত-চিন সংঘর্ষ নয়, করোনা বিস্তারে চিনের ভূমিকা নিয়ে এই ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু পছন্দ হয়নি বেজিংয়ের। ফলে এই সিদ্ধান্ত।

এর আগে, ডিজিটাল স্ট্রাইক চালিয়ে মোদী সরকার চিনকে হাতে নয়, ভাতে মারতে উদ্যোগী হয়। সোমবার রাত থেকে ভারতে নিষিদ্ধ করা হয় চিনের সঙ্গে সম্পর্কিত ৫৯টি চিনা মোবাইল অ্যাপ। এরপরই এই ইস্যুতে পূর্ণ বিবৃতি দেয় ভারত সরকার। আর সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এইসব অ্যাপের ডেটা গিয়ে জমা হত ভারতের বাইরে থাকা কোনও সার্ভারে। সেইসব সার্ভার চিনে রয়েছে বলেই জানা যায়। তাই এইসব অ্যাপ ভারতের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছিল বলে অভিযোগ।

ইতিমধ্যেই বহু মানুষ এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে ছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে এই বিষয়টিকে। আর তার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। এমনটাই জানা গিয়েছে।

অনেকে বলছেন, মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত চিনের সাইবার দুনিয়ার উপর কার্যত ডিজিটাল স্ট্রাইক। এই সিদ্ধান্তে খুশি দেশের মানুষ। কার্যত চিনকে উচিৎ শিক্ষা বলেও মন্তব্য অনেকের। প্রসঙ্গত, লাদাখে গালওয়ান ভ্যালিতে চিনা হামলার পর থেকেই চিনা দ্রব্য বয়কট করার পক্ষে সওয়াল করেছিল ভারতের মানুষ।

এদিকে, গত কয়েক বছর আগে চিনের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ওয়েইবোতে অ্যাকাউন্ট খোলেন প্রধানমন্ত্রী। মূলত ভারত এবং চিনের মধ্যে সম্পর্ককে আরও মজবুত রাখতেই খোলা হয় এই অ্যাকাউন্ট। শুধু তাই নয়, বন্ধুত্বের বার্তা দিতে চিনের ভাষাতেই একাধিক পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে বুধবার সেই অ্যাকাউন্ট নিজের হাতে মুছে ফেলেছেন মোদী বলে খবর।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ