নয়াদিল্লিঃ  শুরু ডিজিটাল যুদ্ধ। সোমবার রাতে টিকটক সহ চিনের একগুচ্ছ অ্যাপ ব্লক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার পালটা চিনের কড়া ব্যবস্থা। জানা যাচ্ছে, চিনের মাটিতে ভারতের একাধিক ওয়েবসাইট খোলা যাচ্ছে না। এমনকি, ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম খোলা যাচ্ছিল চিনে।

কিন্তু সেগুলি আর খোলা যাচ্ছে না বলে সূত্রের খবর। কিন্তু ভারতে এখনও চিনের সংবাদমাধ্যমগুলিকে ব্লক করা হয়নি। সেগুলি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু চিনের সংবাদমাধ্যমগুলি রাতারাতি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলি ব্লক করে দিয়েছে বলে সূত্রের জানা যাচ্ছে। এমনকি ভারতীয় টেলিভিশনগুলিও দেখা যাচ্ছে না বলেই খবর। যা অনেকের ডিজিটাল ওয়্যার বলেও ব্যাখ্যা করছেন অনেকে।

তবে জানা যাচ্ছে, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) সার্ভারের মাধ্যমে ভারতীয় ওয়েবসাইটগুলি খোলা যাচ্ছে। অন্যদিকে, আইপি টিভির মাধ্যমে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলি দেখা যাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যম সুত্রে জানা গিয়েছে। কিন্তু গত দু’দিন ধরে আইফোন এবং ডেস্কটপে এক্সপ্রেস ভিপিএন কাজ করছে না বলেই সূত্রের খবর।

চিনের ক্ষেত্রে এমন কিছু নতুন নয়। হংকং বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক সংবাদমাধ্যমের উপর এহেন ব্যবস্থা নিয়েছে। কখনও ব্লক করে দেওয়া তো আবার কখনও হঠাত করে অন্ধকার হয়ে যাওয়া। এই সমস্ত তালিকায় ছিল বিবিসি সহ একাধিক বিদেশি সংবাদমাধ্যম। এবার সেই তালিকাতে যুক্ত হতে চলেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলি। রয়েছে ভারতীয় ওয়েবসাইটগুলি।

প্রসঙ্গত, চিনকে গায়ে নয়, ভাতে মারতে সোমবার রাত থেকে ভারতে নিষিদ্ধ করা হল চিনের সঙ্গে সম্পর্কিত ৫৯টি চিনা মোবাইল অ্যাপ।

সোমবার রাত থেকে নিষিদ্ধ হওয়া এই অ্যাপগুলি স্মার্টফোন থেকে মুছে ফেলার জন্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে দেশবাসীকে। কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার ও বৈদ্যুতিন মন্ত্রকের তরফে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়। এই মর্মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ওই নির্দেশিকাতে টেলিকম সংস্থাগুলিকে ওই অ্যাপগুলিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্যে বলা হয়েছে। রাতেই যাতে সরে যায় সেই বিষয়েও আবেদন করা হয় বলে জানা যায়। এরপ্পর রাতেই সমস্ত চিনের অ্যাপগুলিকে আটকে দেওয়া হয়। গুগল প্লে স্টোর, অ্যাপল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় টিকটকও।

অন্যদিকে, অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে চিন। সোমবারই চিনা অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। এরপর মঙ্গলবার এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লিও ঝিজিয়াং। তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি।

এদিন তিনি বলেন, ‘আমরা চিনা সংস্থাগুলিতে বারবারই বলে এসেছি আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় আইন মেনে চলছে। ভারত সরকারের উচিৎ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির আইনি অধিকার রক্ষা করা। চিনা সংস্থার ক্ষেত্রেও সেই অধিকার রক্ষা করতে হবে।’

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV