হংকং সিটি: বেজিং মেনে নেবে না হংকং নিয়ে কোনও রকম মার্কিন হস্তক্ষেপ৷ এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে চিন ৷ এবার হংকং-এ কোনও মার্কিন সামরিক জাহাজ ও বিমান আসতে পারবে বলে চিন ঘোষণা করল৷ শুধু তাই নয় হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের উপর ‘হিংসাত্মক ও অপরাধমূলক কাজকর্মে’ ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে কয়েকটি মার্কিন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে চিন।

সম্প্রতি কিছুদিন ধরেই গণতন্ত্রের দাবিতে হংকং উত্তাল হয়েছে ৷ এদিকে সরকার-বিরোধী সেই বিক্ষোভকে সমর্থন করে গত সপ্তাহে আইন পাশ করেছিল মার্কিন কংগ্রেস। আর তা দেখে বেজায় চটেছে চিন৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করে চিন জানিয়েছিল, এভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে তার ফল ভুগতে হবে।

এবার চিনের বিদেশমন্ত্রক জানাল, হংকংয়ে সমস্ত মার্কিন সামরিক জাহাজ-বিমান প্রবেশ ও মেরামতির আর্জি অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করা হয়েছে। এতেও কাজ না হলে ভবিষ্যতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

তা ছাড়া ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’, ‘ফ্রিডম হাউস’-এর মতো মার্কিন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে ৷ এই বিষয়ে চিনের যুক্তি, হংকংয়ের যে অশান্তি ও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে তার পিছনে এদের মদত কম নয়। তাই এদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাই ন্যায়সঙ্গত বলে দাবি চিনের বিদেশমন্ত্রকের কর্তাদের।

কিছুদিন আগে বেজিং-ওয়াশিংটনের শুল্ক যুদ্ধের তীব্রতা বাড়তে থাকায় এমন পর্যায়ে পৌঁছয় ছিল যে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল দু’টি দেশই। পরে তা কাটিয়ে যদিও বা বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু চিনের এই পদক্ষেপের ফলে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সেই চুক্তি ফের ধাক্কা খেতে পারে বলেই আশংকা করা হচ্ছে ৷

এ দিকে, সপ্তাহখানেক শান্ত থাকার পর সোমবার দুপুরে ফের হংকং-এ প্রতিবাদে নামেন বিক্ষোভকারীরা। কাতারে কাতারে সেখানকার বাসিন্দারা ফের গণতন্ত্রের দাবিতে সরব হন৷