চিনা সেনার দাদাগিরি
file pic

নয়াদিল্লি:  বড়সড় কূটনৈতিক জয় ভারতের। অজিত দোভালের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রীর দীর্ঘ আলোচনা। এরপরেই গালওয়াল থেকে সেনা সরাতে বাধ্য হল বেজিং। প্রথমে জানা গিয়েছিল এক কিলোমিটার সরে যাচ্ছে চিনের বাহিনী। কিন্তু জাতীয় এক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে প্রায় দেড় থেকে ২ কিলোমিটার পিছনে নিজেদের সমস্ত ঘাঁটি সরিয়ে নিয়েছে চিনের বাহিনী।

এমনকি পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ থেকেও তারা অনেকটা সরে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি কনফার্ম করেছে চিনের তরফে। সীমান্ত থেকে চিনের বাহিনী সরে যাওয়া রীতিমত ভারতের বড়সড় কূটনৈতিক জয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ নিয়ে গত ১৫ জুন তারিখ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনী। যদিও মে মাসে ভারতীয় ভুখন্ডের ওই সমস্ত এলাকা নিজেদের বলে দাবি সেগুলির দখল নিয়ে নেয়। এরপর থেকে সমস্যা সমাধানে দফায় দফায় চলছিল আলোচনা।

৩০ জুন দু’দেশের সেনার মধ্যে প্রায় ১০ ঘণ্টা কোর কমান্ডার স্তরে আলোচনা চলে। ভারত বলে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় আগের পরিস্থিতি বহাল রাখতে হবে, চিনা সেনাকে জরুরি ভিত্তিতে গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং সো এবং অন্যান্য এলাকা থেকে পিছিয়ে যেতে হবে। কিন্তু এরপরেও এলাকা ছাড়েনি চিন।

একদিকে আলোচনা অন্যদিকে ক্রমশ ভারতের ভূখন্ডে নিজেদের মাটি শক্ত করতে চাইছিল চিন। নানা বিতর্কের মাঝে চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে টানা ২ ঘণ্টা ভিডিও কলে কথা বলেন দোভাল। ঠিক তারপরেই সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেজিং।

এরপর সোমবারই, লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার খবর এসেছে। চিনের সেনাবাহিনী সরে গিয়েছে বলে আগেই খবর এসেছে। এবার সেই কথা স্বীকার করেছে চিন।

চিনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের বিদেশমন্ত্রী ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ‘গত ৩০ জুন কমান্ডার লেভেলের তৃতীয় বৈঠকের পর সরে গিয়েছে দুই দেশের সেনা।’

সীমান্ত সংঘর্ষের পরে কিছুদিন আগেই লাদাখের নিমু সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সীমান্তে দাঁড়িয়ে চিনের নাম না করেই পড়শি দেশকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে। ভারতীয় সেনাদের জন্য উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র আমদানি করা হচ্ছে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেহ ও লাদাখ পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে সেনাবাহিনী ও ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁদের মনোবল বাড়ান। দেশের জন্য যে ২০ জওয়ান শহিদ হয়েছেন তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব