তেহরান:  ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে চিন এবং আমেরিকার মধ্যে। তাইওয়ান, আমেরিকা-চিন বাণিজ্য যুদ্ধ সহ একাধিক ইস্যুতে ক্রমশ উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এরই মধ্যে গত কয়েকদিন আগেই চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, চিন-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ বাঁধলে তা ভয়ঙ্কর হবে। এমনকি গোটা বিশ্ব ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় চিন। আর এই হুঁশিয়ারির পরেই উত্তেজনার পারদ আরও চড়ছে গোটা বিশ্বে। আর এরই মধ্যে চিনের বিরুদ্ধে আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানাল ইরান। চিনের উপর ওয়াশিংটন যেভাবে ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে তা অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ অর্থাৎ ইকোনোমিক টেরেরিশম বলে অভিহিত করেছে তেহরান।

ইরানের বিদেশ দফতরে মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেছেন, বিগত কয়েকমাস ধরে চিন এবং আমেরিকার মধ্যেকার বাণিজ্য যুদ্ধ ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই যুদ্ধের প্রভাব ওই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আঁচ দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে তা গোটা বিশ্বের উপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আব্বাসসাহেব।

মুসাভি বলেন, প্রাপ্ত তথ্য এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চিনের বিরুদ্ধে আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে আগামী দু’বছর বিশ্বের জিডিপি ৬০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এতে করে গোটা বিশ্বে দারিদ্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন দেশের সচ্ছ্বল মানুষেরও জীবন যাত্রার মান অনেকটাই নীচে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে মার্কিন সরকার বিশ্বে সংকট সৃষ্টির যে সাহস দেখাতে শুরু করেছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের এই মুখপাত্র।

তিনি আরও বলেন, অন্য দেশের ওপর অপ্রচলিত ব্যয় চাপিয়ে দিয়ে আমেরিকার আগের অবস্থান ফিরে পাওয়ার মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। কাজেই মার্কিন সরকারকে তার বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মার্কিন সরকার গত বছর চিনের একাধিক পণ্যের ওপর ২০ হাজার কোটি ডলারের শুল্ক আরোপ করে। চিন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন পণ্যের ওপর ১৬ হাজার কোটি ডলার শুল্ক আরোপ করে। দু’দেশের এই বাণিজ্যিক টানাপড়েন নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যে এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। দু’দেশের সর্বশেষ বৈঠক পরবর্তী তারিখ ঘোষণা ছাড়াই শেষ হয়েছে। ফলে আগামিদিনে এই জটিলতা আরও বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহালমহল।