নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বের বেশ কিছু দেশ প্রশ্ন তুলেছে চিনের দিকে। আমেরিকা তো সরাসরি এই ভাইরাস নিয়ে চিনকেই অভিযুক্ত ঠাউরেছে। তবে এবার বিবৃতি দিল চিন। বুধবার ভারতে চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র এর তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হল, চিন এই ভাইরাস তৈরি করেনি বা বিশ্বে ছড়ায় নি।

পাশাপাশি ‘চিনা ভাইরাস’ বা ‘উহান ভাইরাস’-এর মতো শব্দগুলিতেও আপত্তি জানিয়েছে লালচিন। চিনের মুখপাত্র জি রং জানিয়েছেন, চিনা মানুষদের সমালোচনা না করে চিন কীভাবে এই ভাইরাসের মোকাবিলা করেছে, তার দিকে বিশ্বের অন্য দেশের নজর দেওয়া উচিৎ।

চিন ও ভারতে করোনা প্রসঙ্গে জি রং জানিয়েছেন, উভয় দেশই মহামারির বিপদের সময়ে পারস্পারিক বার্তা প্রদান করেছে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, বিপদের সময় ভারত ওষুধ দিয়ে চিনকে সাহায্য করেছিল, সে ব্যাপারে তাঁরা ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এর জন্যে ভারতের প্রশংসা করি এবং ধন্যবাদ জানাই।”

পাশাপাশি আমেরিকার নাম না করে জি রং-এর দাবি, যারা করোনাভাইরাসের নাম নিয়ে চিনকে কলঙ্কিত করতে চাইছেন, তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন যে, মানবজাতির কল্যাণে চিন প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করেছে।

অন্যদিকে ‘হু’ এর টুইট ঘিরে জোর জল্পনাও ছড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এর একটি টুইটে দেখা যাচ্ছে, চিন ‘হু’ কে জানুয়ারি মাসে যে তথ্য দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী এই মারণ ভাইরাস মানুষের থেকে মানুষের দেহে ছড়ায় না।

অনেকের অভিযোগ, এখানেই সত্যকে আড়াল করে গিয়েছে চিন। কারণ, চিন হু কে জানিয়েছিল এই রোগ মানব শরীর থেকে মানব শরীরে ছড়ায় না। কিন্তু ততদিনে চিনে কয়েক’শ মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিন্তু ছড়িয়ে গিয়েছে। তাও এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য রাষ্ট্র সংঘের দপ্তরের হাতে তুলে দেয়নি চিন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও চিনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ চিন ইচ্ছাকৃতভাবে করোনা নিয়ে তথ্যগোপন করেছে। অন্যদিকে বেজিং আবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিয়ে সেই অভিজ্ঞতা অন্য রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে শেয়ার করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে তাঁদের একপ্রস্থ কথাও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।