শংকর দাস, বালুরঘাট: আত্রেয়ীর পাড়েই ওদের জন্ম। আত্রেয়ীর চরেই বেড়ে ওঠা। সুতরাং আত্রেয়ীর বিপন্নতায় তারাও যে প্রভাবিত হবে তা আর বলার অবকাশ রাখে না। অন্তত অন্যরা কেউ তা না বুঝলেও আত্রেয়ী পাড়ের ছোট ছোট শিশু-কিশোররা তা বিলক্ষণ বুঝে গিয়েছে। আর সেই কারণেই প্রতিবছর দশমীর ভাসানের পরদিন দু’-চার পয়সা রোজগারের খেলায় আত্রেয়ীকে পরিষ্কার করে থাকে তারা। এবছরেও সেই দৃশ্যের ব্যতিক্রম হয়নি।

দক্ষিণ দিনাজপুরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রেয়ী তার নাব্যতা হারিয়েছে বহুদিন আগেই। ফলে বিপন্ন এই নদীর জলে নির্ভর দুই পাড়ের কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবিরা। এমনকি হারিয়ে গিয়েছে আত্রেয়ীর জলের বিখ্যাত রাইখণ মাছও। আত্রেয়ী বাঁচানোর ডাক দিয়ে সারা বছর জেলার পরিবেশপ্রেমী ও নদী বিশারদরা সেমিলার পদযাত্রা সহ নানান কর্মসূচি পালন করে তা প্রচার মাধ্যমে ছড়িয়েও দিচ্ছেন। কিন্তু বালুরঘাটের আত্রেয়ী কলোনী ও কল্যানীহল কলোনীর রাজু বাপ্পা রাজ নিখিলের মত অল্প বয়সীরা নীরবেই নদী সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

এদের কেউ শিশু, কেউ বালক। প্রত্যেক বছর দশমীর পরদিন সকাল হতেই ছুটে যায় আত্রেয়ীর ঘাটে। জলে নেমে পড়ে প্রতিমার কাঠামো ও খড়কূটো নদী থেকে তুলে আনে। কাঠামোর বাঁশ কাঠ বিক্রি করে পাওয়া পয়সা দিয়ে নিজেরা পিকনিক করে আনন্দ করে। এই পিকনিকের বাহানায় প্রতি বছর তারা আত্রেয়ীকে দূষনমুক্ত করে পরিবেশ সচেতনতার অন্যন্য নজির তারা রেখে চলেছে।

কল্যানী কলোনিতে বাড়ি কিশোর অনিল বাসঁফোর জানিয়েছেন যে দশমীতে আত্রেয়ীতে যতগুলি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। পরদিন সেগুলির কাঠামো পাড়ে তুলে তা থেকে খড় কাপড় ও সাজসজ্জা গুলি বন্ধুরা সবাই মিলে আলাদা করে। কাঠামোর কাঠ ও বাঁশ বিক্রি করে যা কিছু পাওয়া যায় তা দিয়ে সকলে একসাথে পিকনিক করা হয়। একাজের মূল উদ্দেশ্যই হলো নদীর ঘাট পরিষ্কার রাখা। কারণ আত্রেয়ীর এই ঘাটেই তারা ছোটবড় সবাই স্নান ও জলে ঝাপাঝাপি করে থাকে। সেক্ষেত্রে নদীর জল ও ঘাট অপরিষ্কার থাকলে তাদেরই সমস্যা বলেও জানিয়েছে সে।

এব্যাপারে বিশিষ্ঠ নাট্যব্যক্তিত্ব প্রদোস মিত্র জানিয়েছেন যে দশমীর পরদিন আত্রেয়ী ঘাটের এই দৃশ্য প্রতিবছরের। সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হতেই পারে যে সামান্য রোজগারের জন্যই বাচ্চারা এসব করছে। কিন্তু না এরা প্রত্যেকে বিনা ঢাকঢোল পিটিয়ে আসলে নদী সুরক্ষার কাজই করে চলেছে।