মালদহ: জন্মের পর চুরি হয়ে যায় শিশু৷ অথবা হাসপাতালে কোনও মহিলার কাছে কিছু সময়ের জন্য শিশু রেখে গেলে তাকে আর পাওয়া যায় না৷ এই সব ঘটনাগুলি দিনের পর দিন ঘটে চলছিল মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে৷ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিশু পাচার চক্রের হদিশ পেল পুলিশ ও শিশু সুরক্ষা দফতর৷ গ্রেফতার করা হয় এক মহিলাকেও৷

২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন পুরাতন মামলা ব্লকের ঝুমার দিঘি গ্রামের বাসিন্দা সোনামণি কিস্কু। মায়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় মা ও শিশুটিকে আলাদা করে চিকিৎসায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু এর তিনদিন পর মাকে যখন ছুটি দেওয়া হয় তখন শিশুটির কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেই সময় গোটা ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ইংরেজবাজার থানায়। জানানো হয় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার দফতরেও৷

এরপর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে শিশুটি হবিবপুর থানার কানপুর গ্রামের শেফালী রবিদাসের নামে এক মহিলার কাছে রয়েছে। সেইমতো সেখানে হানা দিলে সেখান থেকে শেফালী রবিদাস আগে থেকেই পালিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি৷

অবশেষে তার খোঁজ পায় পুলিশ৷ সেই মতো দক্ষিণ দিনাজপুর তপন থেকে তাকে গত তিন দিন আগে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন আদালতে তুলে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় চার দিনের জন্য। পুলিশের জেরার মুখে শেফালী স্বীকার করে ২৫ হাজার টাকার বিনিময় শিশুটিকে সে এক আয়ার কাছ থেকে কিনেছিল। এরপর শিশুটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিন শিশুটিকে মালদহ জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার দফতরের মাধ্যমে তুলে দেওয়া হয় শিশুটির পরিবারের হাতে।

মালদহ জেলা শিশু সুরক্ষা দফতরের চেয়ারম্যান চৈতালি ঘোষ সরকার জানান, শিশুটি হাসপাতাল থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর আমরা খবর পেয়ে তড়িঘড়ি তার সন্ধান শুরু করি। এরপর তাকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমরা সমস্ত কিছু তদন্ত করে এদিন শিশুটির পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছি। এই কাজ করতে পেরে আমরা খুব খুশি ও আনন্দিত।