প্রতীতি ঘোষ, বারাসত: করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি অক্সিজেন পার্লার চলছে সর্বত্র। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হানাফিয়া মাদ্রাসায় তেমনই উগ্যোগ নেওয়া হলো। চালু হলো শিশুবান্ধব সেফ হোম।

আইলা, আমফান, ফনী, ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ের সময় জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা হয় প্রাথমিক আশ্রয় কেন্দ্র। সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে একই ছবি। বসিরহাট এক নম্বর ব্লকের হানাফিয়া মাদ্রাসায় চালু হলো অক্সিজেন পার্লার। জেলা পরিষদের সদস্য শাহানুর মন্ডলের উদ্যোগে চালু করা হলো সেফ হোম।

এখান থেকে সুবিধা পাওয়া যাবে অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিমিটার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং মেডিকেল পরিষেবার। সম্পূর্ণ করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই সেফ হোম করা হয়েছে।

এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কথা মাথায় রেখে মাদ্রাসায় শিশুবান্ধব সেফহোম করা হয়েছে। এখানে সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারবেন মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। এই উদ্যোগকে এক অনন্য নজির হিসেবে দেখছেন বসিরহাটের মানুষ।

সেফ হোমের সম্পাদক আব্দুল জব্বার ও জেলা পরিষদের সদস্য শাহানুর মন্ডল বলেন, যেভাবে করোনা মহামারি ছড়িয়েছে তাকে তৃতীয় ঢেউয়ের জন্য রাজ্য সরকার প্রস্তুত। হানাফিয়া মাদ্রাসায় প্রাথমিকভাবে ৬টি বেড করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেডের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

এই সেফ হোম করা হয়েছে শিশুদের কথা মাথায় রেখে। কারণ, করোনার পরবর্তী ঢেউয়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাদ্রাসার সেফ হোমে থাকছে অক্সিজেন পার্লার।

আরও জানানো হয়, করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বসিরহাটের গ্রামাঞ্চলে প্রচার চলবে। প্রয়োজনে মাদ্রাসার সেফ হোমের ফোন নম্বরে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারবেন। যেহেতু বসিরহাট জেলা হাসপাতালে থেকে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালের দূরত্বটা অনেকটাই বেশি তাই করোনা আক্রান্তের বাড়িতে পৌঁছাবে অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রয়োজনমতো মাদ্রাসার সেফ হোমে করোনা আক্রান্তদের আনার ব্যবস্থা থাকছে।

রাজ্যে সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতির মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা এখনও মৃত্যুর হারে উদ্বেগজনক। সংক্রমণ ছড়াচ্ছেই। এই জেলা ও কলকাতার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চলছে।

করোনা সংক্রমণের জেরে বন্ধ করা হয়েছে পরীক্ষা। অতি সাম্প্রতিক ইয়াস ঘূর্নিঝড়ে বসিরহাটের বহু এলাকা বিপর্যস্ত। আশ্রয়হীন ও খাদ্য পানীয় জলের সংকট রয়েছে ইয়াস কবলিত এলাকায়। এর সঙ্গে রয়েছে করোনা সংক্রমণ।

আগেও হানাফিয়া মাদ্রাসা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিল। এবার করোনা মোকাবিলায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ শিশুবান্ধব সেফ হোম।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.