কলকাতা ও বালুরঘাট:  চিকিৎসার অবহেলায় আঙুল বাদ যাওয়া বালুরঘাটের শিশুটিকে কলকাতায় এসএসকেএমে আনার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হতে পারে প্রচারের স্টান্ট, কিন্তু এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে ক’জন মুখ্যমন্ত্রীকেই বা দেখা যায়? এসএসকেএমে শিশুটির চিকিৎসা করবেন তাবড় ত্বক বিশেজ্ঞরা। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শিশু ও তার পরিবারকে স্পেশাল অ্যাম্বুলেন্সে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

ব্যান্ডেজ কাটতে কাটা পড়ল আট মাসের শিশুর আঙুল

এই ঘটনার প্রসঙ্গে এসএসকেএমের একটি অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার কড়া প্রতিক্রিয়া শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, এই ধরনের গাফিলতি ও কর্তব্যে অবহেলার জন্য চাকরি চলে যাওয়া উচিত। এটা একটা অপরাধ। কোনও মতে এই ধরনের অপরাধ বরদাস্ত করা যায় না। প্রসঙ্গত, যে নার্সের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। যদিও একটা ব্যান্ডেজ কাটতে গিয়ে একটি শিশুর আঙুল বাদ যাওয়ার জন্য শুধু একজনকে নার্সের অবহেলা কেন দায়ী হবে, চিকিৎসকদের কোনও দায় থাকবে না, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে।
বালুরঘাট থেকে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা হাসপাতালের সুপারের বিরুদ্ধেও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মূলে রয়েছে তাঁর সিদ্ধান্ত। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, আটমাসের যে শিশুটি ওইভাবে জখম হয়েছিল, যাকে কলকাতায় পাঠানো ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা ছিল না, সেই তাকে হাসপাতাল সুপার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পাঠালেন কোন বুদ্ধিতে? তিনি তো নিজেই জানতেন যে, শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই ধরনের চিকিৎসার কোনও পরিকাঠামোই নেই। শুধু তাই নয়, এই প্রশ্নও উঠেছে যে, যেহেতু শিশুটির পরিবার অত্যন্ত সাধারণ একটি পরিবার, সেই জন্যই কি এভাবে শিশুটিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা হাসপাতালের সুপার হাত ধুয়ে ফেলতে চেয়েছিলেন?
জানা গিয়েছে, শুধু এসএসকেএমে নিখরচায় চিকিৎসাই নয়, চিকিৎসা যতদিন চলবে ততদিন শিশুটির মা-বাবারও কলকাতায় থাকার বন্দোবস্ত করছে রাজ্য প্রশাসন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে।