স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এনআরএস হাসপাতালে কুকুরের কামড়ে রক্তাক্ত শিশু৷ বুধবার দুপুরে হাসপাতাল সুপারের অফিসের কাছে পাঁচ বছরের শিশুকে একটি কুকুর কামড়ে দেয়৷ সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালেরই জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়৷ এই ঘটনায় হাসপাতালের ভিতর কুকুর আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে৷

এনআরএস হাসপাতালের কুকুর কান্ডের রেশ কাটতে না কাটতে ফের শিরোনামে উঠে এল হাসপাতালের নাম৷ হাসপতালের অভিযুক্ত দু’জন নার্সের শাস্তির দাবিতে একদিকে যখন পশুপ্রেমীরা আন্দোলনে সোচ্চার৷ তখন পাল্টা আন্দোলনে নেমেছিল হাসপাতালের নার্সরা৷ নার্সদের দাবি ছিল, হোস্টেল ও হাসপাতাল চত্বরকে কুকুরমুক্ত করতে হবে৷ তারপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যে কোন হেলদোল নেই, তা ফের প্রমাণিত হল বুধবার৷

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ এনআরএস হাসপাতাল এর সুপারের অফিসের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল পাঁচ বছরের রানি মল্লিক৷ সুপারের ভবনের কিছুটা দূরে শিশুটিকে একটি কুকুর তার কোমর কামড়ে ধরে৷ শিশুর চিৎকারে হাসপাতালের ভিতরে থাকা রোগীর আত্মীয়রা এগিয়ে আসেন৷ কুকুরটিকে তাড়া করে রানিকে মুক্ত করেন৷

এরপর তারা দেখেন কুকুরের কামড়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে রানির কোমরে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ওই হাসপাতালেরই জরুরি বিভাগে৷ ঘটনাচক্রে রানি হাসপাতালের ভিতরেই বসবাস করে৷ তার ঠাকুমা হাসপাতালে ঠিকা কর্মীর কাজ করেন৷

অন্যদিকে এনআরএস কুকুর কান্ডে মঙ্গলবার পশুপ্রেমীরা স্বাস্থ্য ভবনের কাছে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে৷ হাসপাতালের দুই নার্সিং পড়ুয়া মৌটুসি মন্ডল ও সোমা বর্মনকে বহিস্কার ও শাস্তির দাবিতে তাদের এই বিক্ষোভ৷ আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ ২০০ মিটার আগে তাদের আটকে দেয়৷ তখন রাস্তাতেই বসে পড়ে এবং অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে আন্দোলনকারীরা৷

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ তাদেরকে মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়৷ পুলিশের লাঠির আঘাতে তাদের বেশ কয়েকজন আগত হয়েছেন৷ যদিও পুলিশ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷