স্টাফ রিপোর্টার,বাঁকুড়া: করোনা সমস্যা সমাধানে নিজের জন্মদিনে পাওয়া পুরো টাকাটাই ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট এমার্জেন্সি রিলিফ ফাণ্ডে তুলে দিল তৃতীয় শ্রেণীর পড়ুয়া ছোট্ট অনুভব। বাঁকুড়ার ইন্দপুরের চাকলতোড় গ্রামের অনুভব দাস সোমবার বাবা প্রিয়ব্রত দাসের হাত ধরে এসে স্থানীয় বিডিও মনীশ নন্দীর হাতে নিজের জমানো ১০২৫ টাকা তুলে দিল।

চাকলতোড় গ্রামের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অনুভব দাস সম্প্রতি তার জন্মদিন পেরিয়ে এসেছে। জন্মদিনে নানান উপহারের পাশাপাশি বড়দের কাছ থেকে পাওয়া ১০২৫ টাকা জমিয়ে রেখেছিল ক্রিকেট ব্যাট, বল সহ অন্যান্য পছন্দের বেশ কিছু জিনিস কিনবে বলে।

এর মাঝেই মারণ ভাইরাস করোনা’র আগমন সব কিছু উলোট পালোট করে দিল। স্কুল বন্ধ থাকায় তার অন্যান্য বন্ধুদের মতো সেও এক প্রকার গৃহবন্দি। বাড়িতে বসেই পড়াশোনার পাশাপাশি টিভিতে পছন্দের কার্টুন চ্যানেল গুলিতে অবাধ বিচরণ তার।

এর মাঝেই বড়দের সঙ্গে খবরের চ্যানেল গুলোতেও চোখ রাখে সে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সকলের কাছে যথাসাধ্য সাহায্যের আবেদন দেখে বাবার কাছে প্রস্তাব রাখে, ব্যাট- বল অন্য কোন সময় কেনা যাবে।

জন্মদিনে পাওয়া পুরো টাকাটাই মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে হবে। ছেলের আব্দার ফেলে দিতে পারেননি বাবাও। জন্মদিনে বড়দের আশীর্বাদ স্বরুপ পাওয়া ১০২৫ টাকা তুলে দিন স্থানীয় বিডিও মনীশ নন্দীর হাতে। অনুভবের এই ভাবনায় খুশি বিডিও মনীশ নন্দী নিজেও।

অনুভবের কথায়, করোনা ভাইরাস থেকে সবাই মুক্তি পাক। তাই জন্মদিনে পাওয়া পুরো টাকাই মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দিলাম। অনুভবের বাবা প্রিয়ব্রত দাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন টিভিতে দেখেই ছেলে বায়না ধরেছিল তার জমানো টাকাও সে দেবে। ছেলের ইচ্ছেপূরণেই তিনি ওই টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করার ব্যবস্থা করেন বলে তিনি জানান।