প্রতীকী ছবি

কলকাতা: গোটা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অন্যান্য রাজ্য থেকে কম হলেও পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কত দিনে এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। তবে এবার সেই সংখ্যা নিয়ে তৈরি হল নতুন দ্বন্দ্ব।

রাজ্যের বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই কমিটির রিপোর্টে বলা হয় গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩। আর ২৪ ঘন্টায় নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৭।

কিন্তু এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন তথ্য দিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। বিশেষজ্ঞদের কমিটির সেই রিপোর্ট নস্যাৎ করে মুখ্যসচিবের দাবি আসলে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম। সাতজনের মৃত্যু করোনা আক্রান্ত হয়ে হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এদিন নবান্ন থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বলেন, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ নয়, ৩৪। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ৩৪ জনের শরীরে সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে মৃতের সংখ্যাও সাত নয় বলে জানিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন রাজীব সিনহা। তিনি বলেন, অন্যান্য প্রাণঘাতী অসুখ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তাঁরা। এই সাতজনের মধ্যে কেবল মাত্র তিনজনের মৃত্যু করোনাভাইরাস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। বাকিদের মৃত্যু অন্য কোনও অসুখে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের মৃত্যুর সঙ্গে করোনার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি মুখ্য সচিবের।

বৃহস্পতিবার করোনা নিয়ে রাজ্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি এই তথ্য দিয়েছে৷ কমিটির তরফে বলা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ জনের রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে৷ এদের মধ্যে ১৬ জনের শরীরে COVID19 ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে৷ অর্থাৎ রাজ্যের মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল মোট ৫৩ জন৷ এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোটে ৭৬৩ জনের রিপোর্ট এসেছে পাওয়া গিয়েছে বলে জানায় চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ কমিটি৷

এদিকে, বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে ৩ জনে করোনা আক্রান্তের মৃত্যর খবর জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

গত ২৪ ঘণ্টায় মোটা ১৩৭ জনকে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে বলেও এদিন বিশেষজ্ঞ কমিটির তরফে জানানো হয়৷ তবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে কোনও আক্রান্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেনি বলেও জানানো হয়৷ ফলে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের মোট ৩ জন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে জিতে বাড়ি ফিরেছেন৷ এঁরা হলেন রাজ্যের করোনা আক্রান্ত প্রথম তিন জন৷