কলকাতা : রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সংবিধানকে লঙ্ঘন করছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে জরুরি তলব রাজ্যপালের। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্টেটাস রিপোর্ট চাইলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর ।

রাজ্যপাল শনিবার ট্যুইট করে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে সন্ধ্যা ৭টায় রাজভবনে ডেকেছেন। রাজ্যপাল তাঁর ট্যুইটে লিখেছেন এর আগে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়। এর পরেও স্বরাষ্ট্র সচিবের পক্ষ থেকে রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষের “স্টেটাস রিপোর্ট” তিনি পাননি। আর এই কারণেই তিনি শনিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে সন্ধ্যা সাতটায় রাজভবনে ডেকে পাঠান। মনে করা হচ্ছে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর চাইবেন।

রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপালের কাছে ইতিমধ্যেই বিজেপি-র একাধিক প্রতিনিধি দল দরবার করেছে। এমন কী মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের দিন রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে রেখেই রাজ্যপাল রাজ্যের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর দায়িয়েত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রীও রাজভবনে দাঁড়িয়েই ঘোষণা করেন, কোনও অবস্থাতেই রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা রাজ্য সরকার বরদাস্ত করবে না। বিজেপিজে রাজ্যে নির্বাচনের পর অশান্তি করছে সেটাও মুখ্যমন্ত্রী বলেন।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই শপথ গ্রহণের দিন বিকেলেই রাজ্যের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছ থেকে চিঠি আসে রাজ্যের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে। পাশাপাশি তার পরের দিনই রাজ্যে চলে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দল রাজ্যপালের সঙ্গেও দেখা করেন। নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-র সঙ্গে বৈঠক করেন।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর জানান রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে ৩ মে পর্যন্ত রাজ্যে ১৬ জন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মারা গেছেন। এর মধ্যে সমসংখ্যক তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী সমর্থক রয়েছেন। একজন রয়েছেন আইএসএফ সমর্থক। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট বিজেপি যে একতরফা তৃণমূল আক্রমণ করছে বলে যে অভিযোগ করছে সেটা ঠিক নয়। বিজেপিও তৃণমূলকে আক্রমণ করছে। এক্ষেত্রে রাজ্যপাল শুধু রাজ্যের শাসক দল ও সরকারের প্রতিনিধিদের ডেকেই তাদের দায়িত্ব মনে করাচ্ছেন কেন ? সেটা নিয়ে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। কেননা বিজেপি-র তরফেও ফেক ভিডিও পোস্ট করা, তৃণমূল কর্মীদের আক্রমণ করা, হত্যা করার ঘটনা ঘটছে। রাজ্যপালের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তাই প্রশাসনের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও হুশিয়ার করা উচিত, যেটা রাজ্যপাল করছেন না, এমনটাই তৃণমূলের অভিযোগ।

এই সময় রাজ্যে যে ভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মেনে কেন্দ্রের উচিত রাজ্যের পাশে দাঁড়ানো। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে রাজ্যের উন্নয়নের কথা বলেছিলেন। তবে সেটা রাজ্যে বিজেপি ভোট জিতলেই হবে, দেয় ছিল শর্ত । কিন্তু ইটা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে হতে পারে না, এটাই সংবিধান বিশারদদের মত। কিন্তু কেন্দ্র রাজ্যে অক্সিজেন, ভ্যাকসিন আছে কি না সেটা দেখার জন্য পর্যবেকক্ষক দল না পাঠিয়ে নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের জন্য রাজ্যের শাসক দলকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.