নয়াদিল্লি : চিনা সেনার গতিবিধি ক্রমশই সন্দেহের চোখে দেখছে ভারত। প্যাংগং লেক আর গালোয়ান ভ্যালি সীমান্তে যেভাবে শক্তি বাড়াচ্ছে ও চোখ রাঙাতে শুরু করেছে চিন, তা ভালো চোখে দেখছে না নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার রীতিমত লাঠি, পাথর এনে অপেশাদার সেনার পরিচয় দিয়েছে চিন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দিকে কার্যত লাঠি নিয়ে এগিয়ে এসেছিল তারা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এমনটাই জানা গিয়েছে।

সংবাদমাধ্য এএনআই-কে এক টি সূত্র জানাচ্ছে যে, পাকিস্তানে মদতে কাশ্মীরে যারা পাথর ছোঁড়ে, তাদের মতই ব্যবহার করেছে চিন। লাঠি, মুগুর, কাঁটাতার আর পাথর নিয়ে এসেছিল চিনা সেনা। ওই সূত্র আরও জানাচ্ছে যে সংঘাত চলাকালীন অকারণ ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে চিন। ভারতীয় সেনার সঙ্গে চরম অপেশাদারের মত ব্যবহার করেছে।

এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এছাড়াও ছিলেন সংশ্লিষ্ট দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। ছিলেন তিন সেনার প্রধানরা। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াতও অংশ নেন বৈঠকে। আরও একটি পৃথক বৈঠকে বিদেশ সচিবের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সূত্র বলছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংও মঙ্গলবার বৈঠক করেন। তিন সেনার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন সেই বৈঠকে। সীমান্তে চিনা সেনার গতি বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছে লাদাখে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে দুই দেশের সৈন্য। মূলত প্যাংগং তোসো লেক ও গালোয়ান ভ্যালির কাছে এই ঘটনা ঘটছে।

গত ৫ মে সন্ধেয় চিনের ২৫০ সেনা যে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে, তার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে চলে গিয়েছে। একই রকম ঘটনা ঘটে ৯ মে নর্থ সিকিমে। ৫ তারিখে রীতিমত লোহার রড নিয়ে সংঘাত চলে দুই পক্ষের মধ্যে। পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ও ঘটে।

প্রাক্তন আর্মি কমান্ডার লেফট্যানেন্ট জেনারেল ডিএস হুদা বলেন, ‘এটা মোটেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। বিশেষ গালোয়ান ভ্যালিতে এভাবে চিনা সৈন্যের আনাগোনা বেশ উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি, কারণ ওই অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনও বিতর্ক নেই। অথচ সেখানেই সৈন্য মোতায়েন করেছে চিন।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV