তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সরকারি বিজ্ঞাপনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠল বিরোধীদের বিরুদ্ধে। বুধবার বাঁকুড়া শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুচকুচিয়া এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই খবর পেয়েই ওই এলাকায় যান পৌরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত। যদিও বিজেপি-সিপিএম এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কেউ যুক্ত নয় বলেই দাবি করেছে।

তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত এই ঘটনার সঙ্গে বিরোধী বিজেপি ও সিপিএম যুক্ত দাবি করে বলেন, খাদ্যসাথী প্রকল্পের সরকারি বিজ্ঞাপনী ফ্লেক্সে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের বিশ্ব বাংলা লোগো ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে হেয় করতে এই কাজ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে পৌরসভার তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। এই এলাকায় বিজেপি-সিপিএম এক হয়ে এই ধরণের কাণ্ড করছে অভিযোগ করে পৌরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত আরও বলেন, ধর্মীয় মেরুকরণ করে লোকসভা ভোটে জিতেছে। কিন্তু আসন্ন পৌরভোটে বাঁকুড়ায় একটি আসনেও জিততে পারবে না।

উলটো দিকে পৌর ভোটের আগে বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতেই এই ধরণের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে দলীয় কাউন্সিলর নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, তারা এই ধরণের ‘নোংরা-আচরণমূলক’ কাজ কখনও করেনা। তৃণমূলের একাংশ এই কাজে যুক্ত বলে তার দাবি। পৌরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের বিজেপি-সিপিএম এক হয়ে এই কাজ করছে দাবি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিজেপি বৃহত্তম দল। একলা চলো নীতিতেই বিশ্বাসী। জনগণের রায় পেলে তবেই তারা কি কাজ করা যায় দেখিয়ে দেবেন বলে তিনি দাবি করেন।

এই বিষয়ে সিপিএম বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অজিত পতি কলকাতা ২৪×৭ কে টেলিফোনে বলেন, এই ধরণের কাজের সঙ্গে তাদের দলের কেউ যুক্ত নয়। পৌরপ্রধান সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনায় সিপিএমের নাম যুক্ত করে কুৎসা ছড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় বিজেপি-তৃণমূল যুক্ত বলেও তিনি দাবি করেন।