স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: রাজ্যের জেলাগুলির মধ্যে সবচেয়ে হাল খারাপ দক্ষিণ দিনাজপুরের৷ উন্নয়নের কাজে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে এই জেলা৷ এই মন্তব্য খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ মঙ্গলবার গঙ্গারামপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর তোপের মুখে পড়ছেন জেলার প্রশাসনিক কর্তারা। জেলাশাসককে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাতদিনের মধ্যে নিজেদের সব সমস্যা মিটিয়ে নিতে হবে।

উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহারে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে রওনা হন গঙ্গারামপুরে। এদিন সেখানে প্রশাসনিক বৈঠক ছিল৷ দক্ষিন দিনাজপুর জেলার রিপোর্ট কার্ড দেখে মঙ্গলবার বেজায় চটে যান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন বিভিন্ন দফতরের কাজকর্ম ও সরকারি প্রকল্পগুলির সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার সময় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের পরিস্থিতি নিয়েও জানতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু খোঁজ নিতে গিয়ে চমকে যান মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি দেখেন, কেউই সে সম্পর্কে এক লাইনও বলতে পারছেন না৷ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কি? তার সুবিধাই বা কি? এব্যাপারে কোনও কিছুই জানেন না পঞ্চায়েত তথা জেলাপরিষদের উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা। এসব দেখেই বেজায় চটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দফতরের সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ ও রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা স্বাস্থ্য সাথী সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝিয়ে দেন।

ক্ষুদ্ধ মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, “দক্ষিণ দিনারজপুরে সরকারি প্রকল্পের কাজ কেন আটকে? কেন রাজ্য সড়ক যোজনায় কাজ হচ্ছে না?কাজ না হলে কীসের খতিয়ান দিচ্ছেন? তপন জল প্রকল্পের কাজ কেন আটকে?” মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের অচলাবস্থা নিয়েও জেলাশাসক নিখিল নির্মলকে ভৎসনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসক অভিযোগ করেন, সদস্যরা বার বার দল বদল করায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদে। তার ফলেই থমকে গিয়েছে উন্নয়ন।

তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, বিজেপিতে থাকা সদস্যরা কাজ করতে দিচ্ছে না। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাত দিনের মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে হবে। বুঝিয়ে দেন, উন্নয়নের কাজে গড়িমসির কোনও অজুহাতই তিনি বরদাস্ত করবেন না। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি, কাজ না করলে তিনি কাউকেই রেয়াত করবেন না৷