স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ‘বুলবুল’ ঘূর্ণিঝড় এখন অতীত। ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরেছে শহর কলকাতা ও শরহরতলি। কিন্তু বিভিন্ন বিধ্বস্ত এলাকায় বুলবুলের ধ্বংস লীলার তাণ্ডবের ছাপ এখনও স্পষ্ট। বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ের জেরে মৃত্যুর পাশাপাশি বাড়ি-ঘর ভেঙেছে অনেক গরীব পরিবারের। ফলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে স্বজন হারানোর পাশাপাশি ভিটেমাটি হারানোর ব্যথা এখনও দগদগে।

আর এই স্বজন হারানো সহায় সম্বলহীন মানুষদের পাশে দাঁড়াতে বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির মেরুদণ্ডী কর্মতীর্থে জরুরী ভিত্তিতে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুরে উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাট মহাকুমার অন্তর্গত সন্দেশখালির বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গে যান মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা।

সন্দেশখালির কর্মতীর্থে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি সন্দেশখালির বিধ্বস্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক ডাকেন। এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী এই উদ্ভূত পরিস্থিতি কীভাবে দ্রুত কাটিয়ে উঠা যায় সেই ব্যাপারেও বক্তব্য রাখেন তিনি। শুধু তাই নয় এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ছিল না কোনও রাজনৈতিক চর্চার ইস্যু। এদিন তাঁর মুখে শুধুই শোনা গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকার মানুষেরা যাতে ঠিকঠাক ত্রান পাই সেই কথা।

আরও পড়ুন – ‘গঙ্গা জলে ধুয়ে’ ডন শ্রীধরকে দলে নিলেন দিলীপ

জানা গিয়েছে, বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসিরহাট এবং সন্দেশখালি। বসিরহাটের বিভিন্ন এলাকা এখনও জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’এর তান্ডবে মৃত পাঁচ জনের পরিবারের হাতে দুলাখ চল্লিশ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি রাজ্যের ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি সন্দেশখালির মানুষও যাতে ঠিকমত ত্রান পান সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন তিনি। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে বিভিন্ন ত্রান শিবিরে আশ্রয় নেওয়া গরীব পরিবার এবং বাচ্চাদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী ও বেবিফুডের ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সরকার পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকেও আহ্বান করা হয়েছে যাতে তারা এসে দেখে যান এই এলাকার বর্তমান অবস্থা। ইতিমধ্যেই বুলবুল ঝড়ে পনেরো লক্ষ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পানীয় জল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাঁচ লক্ষ মাটির বাড়ি ভেঙে গিয়েছে, নদীর পাড় ধসে গিয়েছে শুধু তাই নয় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক জায়গায়। মাছের ভেরিগুলিতে গাছ ভেঙে পড়ে রয়েছে। ঘূর্ণি ঝড়ের কারনে অনেক স্কুল গুলির পঠনপাঠন এখনও শুরু করা যায়নি।

এই পরিস্থতিতে সন্দেশখালির মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন “এই বুলবুল ঝড়ে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশ খালির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যা দূর থেকে কেউ বুঝতেও পারবে না। তবে রাজ্য সরকার এখানকার মানুষের পাশে রয়েছে। আমরা ভেঙে যাওয়া বাড়িগুলি ফের তৈরি করে দেবো, কৃষকদের কেউ তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বাকি যা ক্ষতি হয়েছে সেগুলি দেখে নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে আজ বুলবুল ঝড়ে মৃত পাঁচ জনের পরিবারকে দু-লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারও যাতে এই সমস্ত দুর্গতদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তার জন্য আমরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে এই পরিস্থিতি দেখে যাবার অনুরোধ করা হয়েছে।”