ফাইল ছবি

ভোপাল: মধ্যরাত৷ চারিদিকে মানুষ তখন ঘুমিয়ে পড়েছেন৷ ঠিক সেই সময় রাজ্যে আরএসএসের সদর কার্যালয়ের সামনে এসে দাঁড়াল একটি গাড়ি৷

এতরাতে সেখানে গাড়ি কেন? যে কয়েকজন ছিলেন উৎসুক হয়ে তাঁরা অপেক্ষা করতে লাগলেন গাড়ির আরোহীর বেরিয়ে আসার জন্য৷

অবশেষে সেই আরোহী যখন বেরিয়ে এলেন, তখন তো চমকে গেলেন সকলে৷ কারণ, ওই গাড়িতে করে আরএসএসের দফতরে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

মধ্যরাতে মুখ্যমন্ত্রী কেন এলেন আরএসএসের রাজ্য সদর দফতরে? সেই প্রশ্ন জানার চেষ্টা করলেন সকলে৷ রাতভর অনেক চেষ্টা করেও কেউ কোনও উত্তর পাননি৷ আরএসএসের তরফেও কেউ কিছু জানানো হয়নি৷

তবে আরএসএসের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সঙ্ঘ পরিবারের শীর্ষস্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন৷ প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়৷ রাত দেড়টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী আরএসএসের সদর দফতর ছেড়ে বেরিয়ে যান৷

কেন এই বৈঠক? তার উত্তরে আরএসএসের ওই সূত্রের দাবি, মধ্যপ্রদেশে এমনিতেই ভালো জায়গায় নেই বিজেপি৷ ১৫ বছর ধরে সেখানে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন শিবরাজ সিং চৌহান৷ এবারের বিধানসভা ভোটে তাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া প্রবল৷

বিষয়টি নিয়ে আরএসএসের তরফে তাঁকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল৷ ৮৫টি আসনে প্রার্থী বদলের জন্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বলাও হয়েছিল৷ যদিও শেষ পর্যন্ত শিবরাজের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে বিজেপি ৫৮ জন বিধায়ককে এবার টিকিট দিতে অস্বীকার করে৷

কিন্তু তার পরও কিছু কিছু জায়গায় পরিস্থিতি প্রতিকূল৷ সেই পরিস্থিতির মোকাবিলার পথ খুঁজতেই ভোপালে আরএসএসের মধ্যপ্রদেশ সদর কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান৷