সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : বইমেলার উদ্বোধন করে মঞ্চ ছেড়ে নেমে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝপথে ফিরে এলেন। বললেন, “দরকার হলে ওদের আমার আঁকা ছবি আর লেখা বই পাঠিয়ে দেব।” কাদের তিনি এমন সব ‘উপহার’ পাঠাতে চাইছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ফেরার পথে পিছু এসে কি কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী? তিনি বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যে টাকা পাই নেই না। অন্য কোনও সরকারি মাইনেও নেই না।” এরপরেই চলে আসেন ছবি প্রসঙ্গে। কারণ এই মুহূর্তে ছবি প্রসঙ্গ রাজনীতির বাজারে হট টপিক। সকাল বিকেল কেন্দ্র রাজ্যে তা নিয়ে লড়াই চলছে।

পাশাপাশি এই বইমেলা উদ্বোধনের মঞ্চেই তিনি তাঁর আঁকা দিয়ে তৈরি একটা ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেন। যা উদ্বোধন করেন শিল্পী শুভাপ্রসন্ন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ছবি আঁকা এবং গান লেখার রাইটস (সত্ব) থেকে যা পাই তাতে আমার চলে যায়। ক্যালেন্ডারে ছবি দেখে শুভা দা (শিল্পী শুভাপ্রসন্ন) জিজ্ঞাসা করছিল ওরা তো বলছে তুমি নাকি ছবি এঁকে কয়েক কোটি টাকা নিয়েছ। আমি বলেছি , ‘বলে বলুক। দরকার হলে ওদের আমার আঁকা ছবি লেখা বই পাঠিয়ে দেব’।”

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ রাজনৈতিক সভা থেকে তাঁর আঁকা ছবি থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পুরানো সঙ্গী মানিক মজুমদারের বাড়িতে সিবিআই এবং ইডি হানা দেয় সেই ছবি প্রসঙ্গ নিয়েই। সেই উত্তরই যেন এমন হালকা ভাবে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাচন ভঙ্গি শুনলে মনে হবে তিনি যেন বোঝাতে চাইছেন অত সহজে মচকানোর মানুষ তিনি নিন। বার্তা দিতে চাইলেন, ওসব ছবি কেচ্ছা কেলেঙ্কারিকে তিনি গায়ে মাখেন না। শুধু মাথায় রাখেন। উত্তর দিয়ে যান প্রত্যেক স্থানে। সে কোনও রাজনৈতিক সভা হোক কিংবা আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান।

চলতি সপ্তাহে মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের ছবি নিয়ে বক্তব্যের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নোটিশ ধরিয়েছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রীমা ভট্টাচার্য৷ চন্দ্রীমা বলেছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিটফান্ড কর্তাদের ছবি বিক্রি করেছেন তা প্রমাণ করে দেখাক অমিত শাহ।” বুধবার রামপুরহাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছিলেন, “অর্ধশিক্ষিতরা বাংলার ব্যাপারে কী বা জানে …৷ ‘‘রাজ্যের হাতেও সিআইডি আছে, এসটিএফ আছে৷ আর্থিক দূর্নীতি ধরার ব্যবস্থা আছে৷ আমরাও চাইলে তদন্ত শুরু করতে পারি৷’’