দেবময় ঘোষ-সুমন বটব্যাল, কলকাতা: ‘‘মুখ্যমন্ত্রীকে এখন ঘুমের মধ্যেও বিজেপি’র ‘ভূত’ তাড়া করে বেড়াচ্ছে৷ উনি দুঃস্বপ্ন দেখছেন৷ তাই উলটো পালটা বকছেন৷’’- ঠিক এই ভাষাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়৷

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুও৷ তিনি দাবি করেছেন, ‘‘তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীরাই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হিংসার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন৷ আর সেটা ‘আইওয়াশ’ করতে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যে কুৎসা করছেন৷’’

গত বুধবার বোলপুর এবং তারপর পশ্চিম মেদিনীপুর৷ দুই জেলার প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশ্যে আক্রমণ তীব্রতর করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ‘‘রাজ্যে হিংসা ছড়াতে বিজেপি মন্দিরের সামনে মাংস ফেলে দিয়ে আসছে৷’’ এরপরই থানার আইসি, ব্লকের বিডিও এবং জন প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের নিদান ছিল, ‘‘আপনারা আরও বেশি জন সংযোগ গড়ে তুলুন৷ বিজেপি কোথাও হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করলে আপনারা সঙ্গে সঙ্গে সেই খবর পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন৷’’

সরকারের কাজে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে যুক্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শের সুরে পুলিশ কর্তাদের বলেছিলেন, ‘‘এলাকায় ফিরে সাধারণ মানুষকে বলুন- এই ধরণের কোনও খবর পেলে যেন সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের জানায়৷ খবর সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরষ্কৃত করুন৷ কোনও পরিস্থিতিতেই যাতে ওরা (বিজেপি) হিংসা না ছড়াতে পারে সেজন্য আরও বেশি করে সাধারণ মানুষকে নিজেদের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করুন৷’’

মুখ্যমন্ত্রীর এহেন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর সাফ জবাব, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী উলটো পালটা বকছেন৷ বিজেপির ইমেজ নষ্টের চেষ্টা করছেন৷ কিন্তু উনি আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছেন, তা প্রমাণ করতে পারবেন তো? প্রমাণ ছাড়া একজন মুখ্যমন্ত্রীর এহেন কুৎসা রটানোর চেষ্টা নোংরা রাজনীতির পরিচয়৷’’

আরও একধাপ এগিয়ে বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড় বইতে শুরু করেছে৷ মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সেটা বুঝতে পারছেন৷ এখন ঘুম থেকে ওঠা আর ঘুমাতে যাওয়া, এমনকি ঘুমের মধ্যেও বিজেপির ভূত দেখছেন৷ তাই এসব মিথ্যে কুৎসা করছেন৷’’ উত্তর ২৪ পরগণার বাদুরিয়ার প্রসঙ্গ টেনে লকেটের অভিযোগ, ‘‘বাদুরিয়ার ঘটনায় কারা যুক্ত ছিল? তৃণমূল৷ ওই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট- বিজেপি নয়, এরাজ্যে হিংসা ছড়াচ্ছে তৃণমূল৷’’

পালটা হিসেবে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘হিংসা ছড়ানো ছাড়া বিজেপির এরাজ্যে আর কোনও কাজ নেই৷ রাজ্যের মানুষ সেটা ভাল করেই জানেন৷ আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ ওদের যোগ্য জবাব দেবে৷’’ পঞ্চায়েত ভোট এখনও ঘোষণা হয়নি৷ তার আগে থেকেই প্রধান দুই প্রতিপক্ষর তরজা তীব্রতর হয়েছে৷ এই রাজনৈতিক তরজাকে গেরুয়া শিবির কতখানি ভোট বাক্সে টেনে নিয়ে যেতে পারেন নাকি শাসকেরই একাধিপত্যয় বজায় থাকবে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে- লাখ টাকার প্রশ্নের উত্তরটা অবশ্য জানা যাবে কয়েকমাস পরই৷ আপাতত যুযুধান দুই শিবিরের বাকযুদ্ধ ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে৷

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।