স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আপনার ইচ্ছা হলে আপনি প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনবেন আমার ইচ্ছা হলে আমি ঘুমোব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বললেন, “উনি তো ঘুমিয়েই আছেন।”

দেশ জুড়ে যে সঙ্কটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২৫ মার্চ দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন তিনি। ঠিক তার ৯ দিনের মাথায় আজ ফের দেশবাসীর উদ্দেশে করোনা নিয়ে ভাষণ দিলেন মোদী। তিনি বলেন, “লকডাউনের আজ নবম দিন। আপনারা যে ভাবে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন তা প্রশংসনীয়।”

দেশবাসীর কাছে ৯ মিনিট সময় চেয়ে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার সকাল ন’টায় দেশবাসীর উদ্দেশে করোনা নিয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “৫ এপ্রিল আপনাদের সকলের কাছ থেকে ৯ মিনিট সময় চেয়ে নিচ্ছি। ওই দিন রাত ৯টায় ৯ মিনিটের জন্য সকলে ঘরের আলো নিভিয়ে রাখুন।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “ওই সময় বাড়িতে থেকেই প্রদীপ, মোমবাতি, টর্চ জ্বালান। তাও যদি না হয়, মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালান।”

সাংবাদিক বৈঠকে মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালানোর প্রশ্ন করা হলে খানিকটা বিরক্তি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনার ইচ্ছা হলে আপনি শুনবেন (প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে প্রদীপ জ্বালাবেন), আমার ইচ্ছা হলে আমি ঘুমোব”।

তিনি বলেন, “আমি এখন করোনা সামলাব নাকি আপনারা রাজনৈতিক যুদ্ধ লাগাবেন। প্লিজ এখন রাজনৈতিক যুদ্ধ লাগাবেন না। আপনাদের যদি মনে হয় প্রধানমন্ত্রী ভাল কথা বলেছেন, আপনারা শুনবেন। আমি কেন প্রধানমন্ত্রীর কথায় নাক গলাতে যাব”।

এর জবাবেই দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যের যা অবস্থা তাতে তো সবাই বুঝতে পারছে যে মুখ্যমন্ত্রী ঘুমিয়ে আছেন। রবিবার রাত ৯টাতেও না হয় তিনি ঘুমিয়ে থাকবেন। কিন্তু জেগে থাকবে গোটা দেশ।”

জনতা কার্ফুর কথা টেনে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সেদিন বিকেল পাঁচটায় এই লড়াইয়ের সৈনিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ঘণ্টা, থালা ইত্যাদি বাজাতে বলেছিলেন। তাতেও সমালোচনা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এটাই ওদের কাজ। কিন্তু সেদিন গোটা দেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে সবাই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রয়েছেন। রবিবারও সেটাই হবে।”

সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে যোগ না দেওয়ার প্রসঙ্গেও এদিন নিন্দা করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “কেন্দ্র যেখানে সব রকম সাহায্য নিয়ে তৈরি তখন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কথা বলে রাজনীতি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিলীপের আরও অভিযোগ, কোনও সরকারি কর্মীকে সামনে আসতে না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই শুধু সাংবাদিক বৈঠক করছেন তথ্য চেপে যাওয়ার জন্য।