স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জিন্দলগোষ্ঠীর সিমেন্ট কারখানার উদ্বোধনে করতে সোমবার শালবনিতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এই সিমেন্ট কারখানার শিলান্যাস করেছিলেন তিনি৷ স্বভাবতই, দু’বছরের মধ্যে সিমেন্ট কারখানা চালু হওয়ায় খুশি বাসিন্দারা৷ তবে তাঁরা চান, দেরিতে হলেও এখানে ইস্পাত কারখানা তৈরি করুক রাজ্য সরকার৷

এদিকে জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের অপসারণের বিষয়ে এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কোনও বার্তা দেন কি না, সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল৷ কারণ, রাজ্য রাজনীতিতে ভারতদেবী মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন৷ সবং উপ-নির্বাচনের পরেই ভারতীদেবীকে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের পদ থেকে সরিয়ে কম গুরুত্বের পদে বদলি করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ৷ এরপরই নজিরবিহীনভাবে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন ভারতীদেবী৷ লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের কাছে৷

তবে ভারতীদেবীর এই অপসারণে খুশি জেলার শাসকমহল৷ তাঁদের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ট হওয়ার দৌলতে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে কার্যত শাসকদলের মাথা হয়ে উঠেছিলেন ভারতীদেবী৷ স্বভাবতই, দাপুটে এই প্রাক্তন আইপিএসকে কেন্দ্র করে মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কোনও বার্তা দেন কি না, সেদিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল৷

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে শিল্প হচ্ছে না- বলে বিভিন্ন সময় সরব হয়েছে বিরোধীরা৷ বাম আমলে জিন্দলদের অধিগৃহীত জমিতে শিলান্যাসের দু’বছরের মধ্যে কারখানা চালু করার ঘটনায় বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগের জবাব দিতে পারেন৷ সামনেই পঞ্চায়েত ভোট৷ ফলে শালবনির সরকারি মঞ্চ থেকে উন্নয়নের প্রশ্নে বিরোধীদের কোনঠাসা করতে পারেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷

মুখ্যমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে সভাস্থল ও যাতায়াতের ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে৷ সিমেন্ট কারখানার উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ঘটনাস্থলে সাজ সাজ রব৷ এদিকে কারখানার উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রবিবারই সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন সস্ত্রীক সজ্জন জিন্দল৷ একাধিক কর্মসূচির কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন তিনি৷ তবে স্থানীয়রা চান, দেরিতে হলেও এখানে সিমেব্ট কারখানার পাশাপাশি ইস্পাত কারখানা গড়ে তুলুক জিন্দল গোষ্ঠী৷

বাম আমলে ২০০৮ সালে শালবনির জামবেদিয়ায় ফডারফার্ম এলাকায় প্রায় ৫হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল জিন্দলরা৷ ওই বছরের ২ নভেম্বর কারখানার শিলান্যাস সেরে মেদিনীপুরে ফেরার পথে ভাদতুলায় ৬০নম্বর জাতীয় সড়কে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় লক্ষ্য করে মাইন বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা৷ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান মুখ্যমন্ত্রী সহ তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ তারপর থেকে জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় কারখানা নির্মাণের কাজ৷ একসময় শালবনি থেকে নিজেদের ইস্পাত প্রকল্প গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে জিন্দল গোষ্ঠী৷ পরে পালাবদলের বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে অবশেষে কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু হয়৷