স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পাহাড়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগোড়ায় তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ পাহাড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এনআইএ তদন্ত প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের ‘হিম্মত’ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷ একই সঙ্গে দিলীপবাবুর অভিযোগ, ‘‘যারা রাজ্যের সিস্টেমের মধ্যে থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করছেন, তাঁদেরকেই মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে৷ আন্দোলন ভাঙতে গুলি করে মারা হচ্ছে৷ অথচ বিদেশি সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার মুরোদই নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের৷’’

এদিন রাজ্য বিজেপির কার্যালয়ে পাহাড় প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের কাছে দিলীপবাবু দাবি করেন, ‘‘পাহাড়ে যারা আন্দোলন করছেন, তারা দেশের পতাকা নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই আন্দোলন করছেন৷ অথচ রাজ্য সরকার এমন আচরন করছে যেন ওরা পঞ্জাবের সন্ত্রাসবাদীদের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর৷ তাঁদের নামে মিথ্যে কেস দেওয়া হচ্ছে৷’’

এরপরই পাহাড়ে বোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গে টেনে দিলীপবাবু স্বতস্ফূর্তভাবে দাবি করেছেন, ‘‘আন্দোলনকারীরাই বলছেন, বিস্ফোরণের ঘটনার এনআইএ তদন্ত করা হোক৷ অথচ তা না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওদের নামেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা চাপিয়ে দিচ্ছে৷ কারন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিম্মত নেই এনআইএ তদন্ত চাওয়ার৷’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘সারা বাংলায় বোমা ফাটছে, পাহাড়েও ফেটেছে৷ আর যা হচ্ছে তাতে গুরুংকে দেশোদ্রোহী বানানোর চেষ্টা চলছে৷’’

গুরুংয়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের জারি করা লুক আউট নোটিস প্রসঙ্গে রাজ্যকেই দুষে খড়গপুরের বিধায়ক বলেন, ‘‘পাহাড়ে অশান্তির পরিবেশের ব্যর্থতা তো রাজ্য সরকারের৷ মুখ্যমন্ত্রী ওদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেননি৷ আসলে পাহাড়ের মানুষ ওঁনাকে ভরসা করতে পারছেন না৷ তাই এই আন্দোলন৷ আর পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ গুরুংকে দেশদ্রোহী বানানোর চেষ্টা চলছে৷’’

সিকিম সরকারের সাহায্য না নিয়ে এরাজ্যের পুলিশ গোপনে কেন সিকিমে ঢুকতে গেল, পুলিশের গুলিতে একজনের মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷ বসিরহাটের অশান্তি, কালিয়াচকে থানা পুড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে দিলীপবাবু বলেন, ‘‘বিদেশি টেররিস্টরা হামলা করলে রাজ্য পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকে, আর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করলে রাজ্য সরকার তাদের উপর অত্যাচার নামিয়ে আনে৷ পাহাড়ের মানুষ এই জিনিস মেনে নেবেন কেন?’’

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাহা়ড় প্রসঙ্গে আগাগোড়া মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করে কৌশলে শাসককে কোনঠাসা করার প্রক্রিয়ায় জারি রেখেছেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি৷