স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এইতো সেদিনের কথা৷ কলকাতার বুকে শুরু হয়েছিল উৎসব৷ চলচিত্রের উৎসব৷ সিনেমা প্রিমীদের আবেগ, ভালোবাসায় সে যেন প্রাণের স্পূর্তি৷ তারপর সেউ উৎসবে লাগলো আন্তর্জাতিক তকমা৷ মহানগরের পালকে যুক্ত হল নতুন পালক৷

আরও পড়ুন: লোকসভার টিকিটের জন্য পাঁচ কোটি চাওয়া হয়েছিল, বিস্ফোরক মুকুল

দেখতে দেখতে ২০১৯-এ কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচিত্র উৎসবের রজত জয়ন্তী৷ উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে তৎপর রাজ্য৷ ২৪তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই তার পরিকল্পনার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সিনেমা সবার৷ ক্ষমতায় এসেই তাই এলিট তকমা থেকে বের করে চলচিত্র উৎসবকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ নন্দনের ঘেরাটোপ থেকে আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সরিয়ে আনা হয় নেতাজী ইন্ডোরে৷ সিনেমার স্ক্রিনিং শুরু হয় শহরের নানা প্রান্তের প্রেক্ষাগৃহে৷ উৎসব হয়ে ওঠে ৮ থেকে ৮০-র, সর্বস্তরের মানুষের৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় হলিউড, বলিউড, টলিউড৷

আরও পড়ুন: মমতা’ সৌজন্যতা’র মান রেখে প্রথমবার ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সৌমিত্র

উৎসবের রজত জয়ন্তী বছরে এই ব্যাপ্তি আরও সুদূরপ্রসারী করতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার৷ আগামী বছরে আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সল্টলেকের যুবভারতীতে এক লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে করার কথা এদিন বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে পুরো বিষয়টিকেই চ্যালেঞ্জের আকারে নেওয়ার কথা জানান তিনি৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পাঁচশো লোকের উৎসব বিগত কয়েক বছর ধরে ২০ হাজার মানুষেপ সামনে উদ্বোধন হচ্ছে৷ অমিতজী, শাহরুখ সহ টলিউডের প্রত্যাকে থাকছেন৷ এবার লক্ষ্য উৎসবকে আরও মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া৷ পরিবেশ পরিস্থিতি ঠিক থাকলে আগামী বছর এক লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে হবে আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান৷ উৎসবের ২৫ বছর হবে মনে রাকার মতো৷’’

কথা বলতে গিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়৷’ রজত জয়ন্তী বছরে উৎসবের পরিসর বৃদ্ধি সবার কাছে চ্যালেঞ্জ৷ পুরো বিষয়টি তদারকির জন্য তিনি ভার দেন টলিউডের সুপার স্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে৷ একই সঙ্গে বডিউডের অভিজ্ঞ অভিনেতারও মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, ‘‘২৫ বছরের উৎসব স্মরনীয় করে রাখতে আপনারাও পরামর্শ দিন৷ সাধ্যমত আমরা চেষ্টা করব৷’’

আরও পড়ুন: মুসলিম জামানাতেই সেরা প্রাপ্তি ঘটেছিল ভারতের: যোগীর মন্ত্রী

এদিন নিজের ভাষণের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে বিগ বি অমিতাভ বচ্চন বাংলায় বলেন, ‘‘রক্ষা করুণ, পরের বছর আর আসতে পারবো না৷’’ কিন্তু মঞ্চেই মমতা সেই আবেদন যে মানা হবে না তা পরিষ্কার করে দেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনাকে ছাড়া ২৫ বছরের উৎসব সম্পূর্ণতা পাবে না৷ জয়াজীকে সঙ্গে নিয়ে আসতেই হবে৷’’

বাংলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর কিং খান শাহরুখ৷ আগামী বছর উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ মঞ্চ থেকেই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ স্বস্নেহে বললেন, ‘‘শাহরুখ না এলে উৎসব এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব৷’’ তাঁর কাছে মমতা আবেদন করেন, ‘‘পরের বছর শাহরুখের সৃষ্টির কিছু ঝলক দেখার অপেক্ষায় থাকলাম আমরা৷’’

আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপত্তাই রাজনীতির হতিয়ার কং-বিজেপির: যোগী

এই বছরই প্রথম কেআইএফএফ-এ যোগ দিলেন বর্ষিয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়৷ মমতার সৌজন্যতার মান রাখলেন সৌমিত্র৷ মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ তাঁর আসার পরিপূর্ণতা পেল উৎসব৷ যেন পরের বছরের উৎসবের সুর বাঁধা হয়ে গেল এবছরের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই৷ অপেক্ষা এখন জমকালো উদ্বোধনের৷