নয়াদিল্লি : আরটিআই বা তথ্য জানার অধিকার আইন নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার পর বুধবার ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। আরটিআই বা তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় এবার আসতে চলেছে মুখ্য বিচারপতির দফতর। গোটা দেশে যখন তথ্য জানার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে বার বার অভিযোগ উঠছে সেই সময়ে এই ধরনের রায়কে বেশ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিচার ব্যবস্থায় স্বাধীনতার অধিকার গুরুত্বপূর্ণ আর সেক্ষেত্রে তথ্য লুকিয়ে কখনই স্বচ্ছতা এবং সার্বিক স্বাধীনতা সম্ভব নয় এই মর্মেই মুখ্য বিচারপতির দফতরে আরটিআই বলবৎ করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এই রায় দিতে গিয়ে পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চের মুখ্য বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, ‘বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব পরস্পরের হাত ধরাধরি করে একটি সুস্থ দেশ গড়ে। স্বাধীনতাকে দৃঢ় করে স্বচ্ছতা।’ এই রায় নিয়ে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড় বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা মানে এই নয় যে বিচারপতিরা আইনের ঊর্ধ্বে।’

উল্লেখ্য, আরটিআই কর্মী এসসি আগরওয়ালের করা এক মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট ২০১০ সালে এক রায় জানিয়েছিল, যেহেতু মুখ্য বিচারপতির অফিস একটি সরকারি ক্ষেত্র তাই বিচারপতিদের বিভিন্ন বিষয় জানার অধিকার জনসাধারণের থাকা উচিত। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন এক কেন্দ্রীয় জন তথ্য আধিকারিক। কিন্তু, আজ দিল্লি হাইকোর্টের রায়কেই কার্যত বহাল রাখল ভারতের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়।

২০১০ সালে দিল্লি হাইকোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ মুখ্য বিচারপতির দফতরকে ‘পাবলিক অথরিটি’ অর্থাৎ জনসাধারণের কাজে নিয়োজিত দফতর বলে অভিহিত করেন। এরফলে এই দফতরও তথ্যের অধিকার আইনের অন্তর্গত বলেই রায় দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। এই মামলায় আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সওয়াল করেন, ‘তথ্যের স্বচ্ছতা সামনে আনা উচিত। আদালতে কি হচ্ছে বা কাদের নিয়োগ করা হচ্ছে সেই তথ্য সামনে আনা উচিত। কারণ জনগণের জন্য আদালত তাই জনগণকে সব বিষয়ে জানানো উচিত।’

এই সওয়ালের বিরোধিতা করে ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং বিচারপতিদের বিষয় স্বচ্ছতা খাতিরে জনসমক্ষে না আনাই শ্রেয়।’ এতে সামগ্রিক নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগেও ২০১৭ সালে মুখ্য বিচারপতির দফতর আরটিআই যাবে নাকি সাংবিধানিক বেঞ্চের অন্তর্গত এই নিয়েও মামলা হয়েছিল। তিন সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চে সেবারেও ছিলেন রঞ্জন গগৈ।

সুপ্রিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অবসর গ্রহণ করবেন চলতি মাসের ১৯ তারিখে। অবসর গ্রহণের আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দেবেন তিনি। গত ৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দেওয়ার পর রঞ্জন গগৈ সামনে এখন শবরীমালা মন্দির, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানি এবং রাফাল জেট দুর্নীতির রিভিউ। বৃহস্পতিবার এই তিনটি ‘হাই প্রোফাইল’ মামলার রায় এক সঙ্গে দেবেন তিনি।