সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : CAA-NPR-NRC এর বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করতে সক্রিয় হচ্ছে কংগ্রেস। এই আন্দোলনকে আরও শান দিতে আসছেন পি চিদাম্বরম ৷ তাঁর নেতৃত্বে এই বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে ৷ কলকাতায় বুধবার তেমনটাই পার্টির তরফে জানানো হয়েছে। সেই প্রশিক্ষণ শিবিরে বিজেপির সমালোচনার পাশাপাশি চিদম্বরম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন বলেই ইঙ্গিত মিলেছে৷

সিএএ নিয়ে বিরোধীদের বৈঠকে যোগ দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতে সোনিয়া কিছুটা যে ক্ষুণ্ন হয়েছেন বলে রাজনৈতিকমহলের ধারণা। পাশাপাশি রাজ্য কংগ্রেসের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই লড়াইয়ে নিজের ‘ক্রেডিট’ নিয়ে তাদের ‘আউট অফ সাইট’ করার চেষ্টা করছেন। তাই চিদম্বরম হতে চলেছেন রাজ্য কংগ্রেসের ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারা’-র অস্ত্র। রাজ্য কংগ্রেস জানিয়েছে, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি.চিদাম্বরম কে দিয়ে প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করছে প্রদেশ কংগ্রেস। রাজ্য কংগ্রেস জানিয়েছে, ‘নরেন্দ্র মোদী যেভাবে বেলুড় মঠকে রাজনৈতিক আখড়া বানিয়ে নাগরিকত্ব নিয়ে অসত্য ভাষণ দিয়ে গেলেন তাঁর প্রতিটি জবাব রাস্তায় দাঁড়িয়ে দিতে তৈরি হচ্ছে দল।’

এর জন্যই আগামী ১৮ই জানুয়ারী বিধান ভবনের ‘সভাগৃহে’ সকাল ১১ টা থেকে ‘Leadership Training Camp’ শুরু হবে। সাংসদ পি চিদাম্বরম প্রথমে নয়া আইনের সঙ্গে সংবিধানের সংঘাতের জায়গা তুলে ধরবেন ৷ পাশাপাশি দেশের সব ধর্মের মানুষের উপর এর কতটা নেতিনবাচক প্রভাব পডছে তা নিয়ে আলোচনা করবেন। এর পরে চলবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। রাজ্য নেতৃত্ব এবং জেলা সভাপতিদের যাবতীয় প্রশ্নের জবাব দেবেন শ্রী পি চিদাম্বরম। এই শিবিরের পুরোটাই রেকর্ড করা হবে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই ‘প্রশ্নোত্তরে‘পর্ব থেকে সহজ ভাষায় বাংলায় অনুবাদ করে একটি পুস্তিকা বের করা হবে। যা বাংলায় বিজেপির প্রকাশিত পুস্তিকার বিষয়, ইতিহাস এবং সংবিধান সম্পর্কে তথ্য সহকারে পাল্টা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করা হবে।

এই প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র এবং সাংসদ, পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ উপস্থিত থাকবেন।

প্রসঙ্গত সিএএ প্রত্যাহার ও অবিলম্বে এনপিআরের কাজ বন্ধের দাবিতে সোমবার প্রস্তাব পেশ করেছিল ২০টি বিরোধী দল। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বৈঠকে বসেছিল বিরোধী দলগুলি। সিএএ বিরোধিতার অন্যতম প্রধান মুখ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেও সেই বৈঠকে যাননি। মমতার পাশাপাশি সেদিনের বিরোধীদের বৈঠক এড়িয়েছিল বসপা, আপ, শিবসেনার মতো দলগুলি। বৈঠকে ছিলেন না ডিএমকে সুপ্রিমো স্ট্যালিনও। ফলে চিদম্বারমের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে আন্দোলনে নামলে তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার সমালোচনা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে৷