সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: শেষ পর্যন্ত কমল মুরগির মাংসের দাম। এক ধাক্কায় প্রায় ৬০ টাকা কমেছে বাঙালির রবিবারের সবচেয়ে প্রিয় খাদ্যটির। গত কয়েকম্যাস ধরে রবিবারে বাজারে গিয়ে মুরগির মাংসের দর দেখলে চক্ষুচড়ক গাছ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল। জ্যৈষ্ঠ ম্যাস পড়তে কমল মুরগির মাংসের দাম। ফুলে আপাতত স্বস্তি রোববারের বাজার বাজেটে।

২২০ থেকে ২৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছিল মুরগি। সেটাই এখন ফের কমে ১৮০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছিল মুরগির মাংসের দর। গোটা মুরগি ১০০ টাকা কেজি ছিল সেটাই ১৪০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। পরে তা আরও বেড়ে গিয়ে ১৭০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছিল। আবার ইংলিশ ড্রেস মুরগির দামই হয়ে গিয়েছিল এখন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা প্রতিকিলো। । আজ থেকে সব ধরনের মুরগির দামই কমেছে।

সূত্রের খবরে জানা গিয়েছিল, একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাস যা ছড়িয়ে পড়েছিল রাজ্যের বেশিরভাগ ফার্মে। ফলে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল পোলট্রি ফার্মগুলি। পশ্চিমবঙ্গ পোলট্রি ফেডারেশনের কর্তা সুব্রত মাইতি বলেন , “এমনিতেই গরম পড়েছে বলে মুরগির একটা সমস্যা হচ্ছে। যার ফলে আমদানি কম হওয়ার ফলে দাম বাড়ছে। এটা প্রত্যেক বছর গ্রীষ্মের সময়ের সমস্যা কিন্তু নতুন সমস্যা বলতে একধরনের ভাইরাস দেখা দিয়েছিল যার ফলে অনেক মুরগি মারা যাচ্ছিল। এটা যখনই আমাদের নজরে এসেছে তখনই রাজ্যের মুরগি ফার্মে আমরা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। দোকানে কম জিনিষ গেলে দাম বাড়ছে।”

তিনি তখনই বলেছিলেন , “খুব বেশিদিন এই দাম থাকবে না।” রবিবার ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ফের মোটামুটি সাধারনের আয়ত্তের মধ্যে মুরগির মাংস। তিনি বলেন, এবার এটা শুরু হল। আরও কিছুদিন গেলে যেমন মুরগির সাধারন দাম যায় ওই ১৪০ টাকা ১৫০ টাকা করে কাটা সেটাই হয়ে যাবে। কারণ ওই সমস্যাটা আর নেই। জ্যৈষ্ঠ থেকে আষাঢ়ে যাবার সময় একটু বৃষ্টিও হয়। ফলে শেষের দিকে ওই গরমটা কমার সম্ভাবনা থাকে। তখন দাম কমে যাবে। আপাতত গ্রীষ্ম কালটা দাম এমন চড়া থাকবে।” ঠিক সেটাই হল।

পাশাপাশি মুরগির খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিও মাংসের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল। প্রায় ৬০% বেড়ে গিয়েছে মুরগি চাষের খরচ। তার প্রভাব পড়েছিল বাজারে। এখন ফের সবকিছু হাতের মধ্যে।