নয়াদিল্লি: তফসিলি উপজাতি দাবি করে সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন শুধু নয় বেশ কিছুদিন একেবারে ছত্তিশগঢ়র মুখ্যমন্ত্রিত্বও করেছেন অজিত যোগী ৷ অথচ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি জাত ভাড়িয়েছেন৷ হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ কমিটির তদন্তে তেমনটাই দেখা গিয়েছে৷ আর তারই জেরে এবার তাঁর বিধায়ক পদও বাতিল হতে পারে বলে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।

অজিত যোগী উপজাতি সমাজের প্রতিনিধি হয়ে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধাই ভোগ করেছেন। প্রথম জীবনে মেক্যানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে অধ্যাপনা শুরু করেন। পরে অবশ্য ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন। কংগ্রেসের হাত ধরে অজিত যোগীর রাজনীতিতে প্রবেশ এবং ২০০০ সালে নব গঠিত ছত্তীসগঢ় রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি।দীর্ঘ দিন কংগ্রেসে থাকা অজিত জোগী ২০১৬সালে পুরনো দল ছেড়ে নিজে নতুন জনতা কংগ্রেস ছত্তীসগঢ় দল গঠন করেন।

সেই সময়েই তাঁর বিরুদ্ধে জাত ভাঁড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি নেতা নন্দকুমার সাই প্রথম ২০০১ সালে আদালতে অজিত যোগীর বিরুদ্ধে জাত ভাড়ানোর অভিযোগ তোলেন । ২০১১ সালে সেই মামলা ওঠে সুপ্রিম কোর্টে। তখন যোগীর এই বিষয়ে শংসাপত্রের তদন্তের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। ২০১৭-র জুনে আইএএস রিনা বাবাসাহেব কাঙ্গালের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে অজিত যোগী তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের নন বলা হয় ।

তবে সেই রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টে মামলা করেন অজিত জোগী। এত দিন তদন্ত চালিয়ে গত ২১ অগস্ট একটি রিপোর্ট জমা দেয় ওই কমিটি। যাতে অজিত যোগী নিজের উপজাতি পরিচয় প্রমাণ করতে পারেননি বলা হয়। তফসিলি জাতি উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি আইনে অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুয়ো শংসাপত্রবাজেয়াপ্ত করতে হবে তাঁর। উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত মারওয়াহি আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ায় এ বার সেই বিধায়ক পদও হারাতে পারেন জল্পনা হচ্ছে।

এদিকে অজিত যোগী এই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের তীব্র সমালোচনা করেছেন৷ পাশাপাশি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন তিনি ৷ এদিকে তদন্তকারী কমিটির রিপোর্টকে উচ্চ আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে বলে তাঁর ছেলে অমিত যোগী জানিয়েছেন, ।