রায়পুর: ওঁরা সংখ্যায় ৩০ জন৷ কিন্তু মনের জোরে প্রত্যেকে একাই একশো৷ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথাই বলছিলেন ছত্তিশগড়ের বস্তারের আইজি বিবেকানন্দ সিং৷ অসম্ভব ভালো কাজ করছেন ওঁনারা৷ ৩০ সদস্যের মহিলা কমাণ্ডো ইউনিটের কথা বলতে গিয়ে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছিলেন আইজি সিং৷

বস্তার, দান্তেওয়াড়া- এই নামগুলো আতংক তৈরি করে৷ জীবন বাজি রেখে চলাফেরা করতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের৷ সেখানেই মাও হামলার মোকাবিলায় তৈরি ওই ৩০ জন মহিলা কমাণ্ডো৷ এই কমাণ্ডো ইউনিটের নাম দেওয়া হয়েছে দান্তেশ্বরী লড়াকে৷ ইতিমধ্যেই বস্তার ও দান্তেওয়াড়ায় মোতায়েন করা হয়েছে মহিলা কমাণ্ডোদের৷ টহলদারি শুরু হয়েছে তাঁদের৷

এই ইউনিটেই রয়েছেন ১০ জন প্রাক্তন মহিলা মাওবাদী৷ তাঁরাও সমান দক্ষতায় কমাণ্ডো ট্রেনিং নিয়েছেন৷ ওই এলাকা হাতের তালুর মত চেনেন এঁরা৷ তাঁদের সেই কাজে লাগিয়ে দক্ষতার সাথে টহলদারি চালাচ্ছে মহিলা কমাণ্ডোরা৷

এর আগেও মহিলা কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে ওই এলাকায়, তবে এভাবে অপারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এই মহিলাদের শুধু কমান্ডো ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে তাই নয়, এরা প্রয়োজনে গ্রামবাসীর ছদ্মবেশ নিতে পারবে সহজেই। স্থানীয়দের মত করে শাড়ি পরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারবে। যেহেতু বাস্তারে মহিলা মাওবাদীর সংখ্যা তুলনায় অনেক বেশি, তাই এই বাহিনীকে কাজে লাগানো যাবে বলেই মনে করছে পুলিশ। মহিলাদের সহজে গ্রেফতারও করতে পারবে এরা।

আইজি বিবেকানন্দ সিং বলেন মহিলা পুলিশ কমাণ্ডোরা পুরুষ কমাণ্ডোদের মতোই সমান দক্ষতায় কাজ করছেন৷ তারা সাফল্য আনবেন বলে বিশ্বাসকরেন তিনি৷ মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ রীতিমত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি৷ তার জন্য দেওয়া হয়েছে জঙ্গলের বিশেষ কমব্যাট ট্রেনিং। পুলিশ সুপার অভিষেক পল্লভ জানিয়েছেন, গভীর জঙ্গলে মোট সাইকেল নিয়ে প্যাট্রলিং করা কিংবা মাওবাদী হামলার সব ছক নখদর্পণে রাখার ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে এদের।

গত ছ’মাসে যে এলাকায় বিজেপি বিধায়ক সহ একাধিক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে, সেখানেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই মহিলা বাহিনীকে। দান্তেওয়াড়া পাঁচটি পুরুষের বাহিনী রয়েছে। এটি হবে ষষ্ঠ। এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন ডিএসপি দীনেশ্বরী নন্দ।