ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, লালগড়: অবশেষে জামিনে মুক্তি পেতে চলেছেন লালগড় আন্দোলনের নেতা ছত্রধর মাহাতো৷ তবে ঠিক কবে তাঁর জামিন হবে তা স্পষ্ট নয়৷ বর্তমানে ইউএপিএ ধারায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছেন ছত্রধর৷ সূত্রের খবর, শীঘ্রই তাঁর জামিন মিলবে৷ ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে৷

২০০৮সালের ২নভেম্বর শালবনিরর জামবেদিয়ায় জিন্দল কারখানার শিল্যান্যাস সেরে মেদিনীপুরে ফেরার পথে ভাদুতলায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে মাওবাদীদের মাইন বিস্ফোরণের মুখে পড়েন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য৷ তারপর থেকেই লালগড় কার্যত মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়৷ তখনই সংবাদ শিরোণামে উঠে আসে ছত্রধর মাহাতোর নাম৷ ২০০৯ সাল দুর্গাপুজোর মুখে সিআইডি পাকড়াও করে ছত্রধরকে৷

অতীতে তার সঙ্গে জঙ্গলমহলে আন্দোলন করতে দেখা গিয়েছিল তদানীন্তন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পালা বদলের বাংলায় ছত্রধরের মুক্তির দাবিতে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর শরনাপন্ন হয়েছেন ছত্রধরের স্ত্রী মিনতি মাহাতো৷ সূত্রের খবর, চলতি মাসের মাঝামাঝি নাগাদ ছত্রধরের স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা বৈঠকও করেন৷ সেখানেই ছত্রধর মাহাতোর মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়৷

ছত্রধরের মুক্তি উস্কে বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, ‘‘ছত্রধরকে সামনে রেখেই জঙ্গলমহলে ঢুকেছিলেন মমতা। অথচ মমতার জমানায় ছত্রধর আট বছর ধরে জেলে পচছে৷ আমরা চাই দ্রুত ওর মুক্তির ব্যবস্থা করুক রাজ্য সরকার৷’’ যদিও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি ছত্রধরের উকিল কৌশিক সিনহা৷ তিনি বলেন, “এবিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না৷’’ যদিও ছত্রধরের স্ত্রী মিনতিদেবী বলেন, ‘‘শুনেছি, স্বামীকে নাকি মুক্তি দেবে৷ তবে যতক্ষণ না মুক্তি পাচ্ছে, ততক্ষণ এবিষয়ে নিশ্চিত হই কি করে বলুন তো৷’’