কল্যাণী: টানা সাত ম্যাচ জয়ের পর আই লিগে পয়েন্ট নষ্ট করল লিগের মগডালে থাকা মোহনবাগান। তবে লিগে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিতই রইল কিবুর দল। কল্যাণীতে বৃহস্পতিবার গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সিটি এফসি’র সঙ্গে ম্যাচ ১-১ অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করল সবুজ-মেরুন। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে পাপা দিওয়ারার করা গোলে মোহনবাগান এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে চেন্নাইয়ের হয়ে সমতা ফেরান বাগানের প্রাক্তনী কাটসুমি উসা।

গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় কল্যাণীতে এদিন তাজিকিস্তান স্ট্রাইকার কোমরন তুরসুনভকে ছাড়াই দল সাজাতে হয় কিবু ভিকুনাকে। পাশাপাশি ট্রাউ ম্যাচের প্রথম একাদশে থাকা চুলোভা ও ধনচন্দ্রের পরিবর্তে এদিন একাদশে শুরু করেন আশুতোষ মেহতা ও গুরজিন্দর কুমার। অন্যদিকে গত ম্যাচের একাদশে একটি পরিবর্তন এনে বাগানের বিরুদ্ধে মাঠে নামে চেন্নাই।

মাঝমাঠের দখল রেখে এদিন প্রথমার্ধে বাগান রক্ষণে বারংবার বিপদের সঞ্চার করে দাক্ষিণাত্যের দলটি। বামপ্রান্তিক দৌড়ে একাধিকবার বাগান রক্ষণকে বিভ্রান্ত করে তোলেন কাটসুমি। ১৫ মিনিটে শেখ সাহিলকে পরাস্ত করে জকসন ধাসের উদ্দেশ্যে বল সাজিয়ে দেন জাপানি মিডিও। কিন্তু ধাসের দূরপাল্লার শট ফ্রান গঞ্জালেসের গায়ে প্রতিহত হয়ে বার কাঁপিয়ে ফিরে আসে। অবিন্যস্ত বেইতিয়াদের ছাপিয়ে মাঝমাঠের দখল নিজেদের কাছেই রাখেন চেন্নাই ফুটবলাররা। ফের একবার বিপক্ষ রক্ষণে ত্রাসের সঞ্চার করেন বাগান প্রাক্তনী কাটসুমি। জাপানি মিডিওর থ্রু বল ধরে এবার গোলের কাছে পৌঁছে যান ফিতো মিরান্ডা।

কিন্তু স্প্যানিয়ার্ডের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর মিনিটদু’য়েক বাদে ম্যাচে প্রথমবার ইতিবাচক সুযোগ আসে চলতি লিগে দুরন্ত ছন্দে থাকা মোহনবাগানের কাছে। বেইতিয়ার ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। চেন্নাইয়ের পজেশন নির্ভর ফুটবলের বিপক্ষে গিয়েই প্রথমার্ধের অন্তিম মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যায় বাগান। চেন্নাই রাইট ব্যাক রোহিত মির্জার ডিভেন্সিভ ত্রুটির সুযোগ নিয়ে ৪৫ মিনিটে পাপা দিওয়ারার উদ্দেশ্যে গোলের বল সাজিয়ে নংদম্বা নাওরেম। বিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে রাখতে ভুল করেননি সেনেগাল স্ট্রাইকার।

পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে আকবর নওয়াজের ছেলেরা দাপট নিয়েই খেলা শুরু করেন। গোটা ম্যাচে প্রাধান্য নিয়ে খেলার পুরস্কার ৬৭ মিনিটে পায় অরেঞ্জ ব্রিগেড। ফ্রান গঞ্জালেসকে গতিতে পরাস্ত করে কাটসুমির উদ্দেশ্যে ক্রস বাড়ান জকসন ধাস। হ্যান্ডশেকিং দূরত্বে দাঁড়িয়ে গোল করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা ছিল না অভিজ্ঞ জাপানি মিডিওর। গোল খেয়ে ঘরের মাঠে শেষদিকে আক্রমণে কিছুটা গতি বাড়ায় বাগান। ৮৫ মিনিটে দ্বিতীয়বার গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন পাপা। কিন্তু বেইতিয়ার বিষাক্ত ফ্রি-কিক থেকে তাঁর গোলমুখী হেড দক্ষতার সঙ্গে রক্ষা করেন সান্তানা।

এই ড্র’য়ের ফলে ১৫ ম্যাচে মোহনবাগানের ঝুলিতে ৩৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয়স্থানে থাকা পঞ্জাব এফসি’র থেকে আপাতত ১৩ পয়েন্ট এগিয়ে সবুজ-মেরুন। দ্বিতীয়বার আই লিগ খেতাব ঘরে তুলতে বাকি ৫ ম্যাচ থেকে মোহনবাগানকে সংগ্রহ করতে হবে মাত্র ৫ পয়েন্ট। যা কেবল সময়ের অপেক্ষা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও