চেন্নাই : আত্মহত্যা সমাজের রোগ হয়ে উঠছে। না হলে দিদিমণির বকুনিতে একসঙ্গে চার জন ছাত্রী কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে প্রান দেয়! টেস্ট পরীক্ষায় ভাল ফল হয়নি। দিদিমণি বকেছেন, বলেছেন, বাবা মাকে ডেকে আনতে। ব্যস, স্রেফ এই কারণে তামিলনাড়ুর ভেলোর জেলার রামাপুরমের চার কিশোরী ৮০ ফুট গভীর কুয়োয় ঝাঁপ দিল। ৩ ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়েছে, চলছে আর একটি দেহের তল্লাশি।

১৬ বছরের ৪ ছাত্রী একে অপরের হলায় গলাউ বন্ধু ছিল। পড়াশোনা করত পানাপাক্কম এলাকার সরকারি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বালিকা বিদ্যালয়ে। সামনেই বড় পরিক্ষা কিন্তু তার আগেই টেস্টের ফল ভাল না হয়নি। এই কারনে শিক্ষিকা বকুনি দেন। বলেন, অভিভাবকদের ডেকে আনতে, তাঁদের সঙ্গে মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করা হবে। যেটা স্বাভাবিক। এই স্বাভাবিক দৃশ্যই বদলে গেল চার বন্ধুর একসঙ্গে কুয়োয় ঝাঁপ দেওয়ায়। কারণ সেই দিদিমণির বকুনি।

দিদিমণির বকুনির পর দুপুরের পর আর স্কুলে দেখা যায়নি ওই চার ছাত্রীকে। স্কুলের ব্যাগ ক্লাসেই ফেলে তারা বেপাত্তা হয়ে যায়। ছাত্রীদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পরতে বেশি সময় লাগেনি। খোঁজ শুরু হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা স্কুল থেকে অদূরেই গভীর কুয়োর পাশে দেখতে পান ছাত্রীদের সাইকেল। তিনি দেরি না করে খবর দেন পুলিশে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। তবে পুলিশ দেহ দেখতে পেলেও ৮০ ফুট গভীর ওই কুয়ো থেকে দেহ উদ্ধার করতে পারেনি। শেষে দেহগুলি তুলতে উদ্ধারকারী দলকে ডেকে আনা হয়। তাঁরা দড়ি দিয়ে নেমে তুলে আনেন ৩ জনের দেহ। একটি দেহের খোঁজ এখনও মেলেনি। উদ্ধার হওয়া দিন দেহ ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আপাতত তল্লাশি চলছে চতুর্থ ছাত্রীর দেহর। এই বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়েরও হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও অন্যান্য শিক্ষিকাদের গভীর রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।