লন্ডন: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথমবার ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে চেলসি। তার পরেও ঘরের মাঠে আয়াক্সের বিরুদ্ধে ‘এইচ’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ৪-৪ গোলে ড্র করে দ্য ব্লুজরা। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ আয়াক্সের দু’জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখেন। ৯ জনের প্রতিপক্ষকে সামনে পরপর দু’টি গোল করে চেলসি এবং মান বাঁচায় নিজেদের ডেরায়।

শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের উত্তেজক ম্যাচ হয় স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে। আগ্রাসী আয়াক্স প্রথমার্ধেই ৩-১ গোলের লিড নিয়ে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একটি গোল করে জয়ের সম্ভাবনা প্রবল করে তোলে তারা। তবে দু’টি লাল কার্ড চেলসিকে হারানো স্বপ্ন শেষ করে দেয় আয়াক্সের। শেষ বেলায় চেলসি জয়ের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করে ফেলেছিল। তবে রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিয়ে চেলসির একটি গোল বাতিল করে। তা না-হলে ম্যাচে নাটকীয় জয় তুলে নিতে পারত ল্যাম্পার্ডের দল। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে, চেলসি ম্যাচে দু’টি গোল উপহার দেয় প্রতিপক্ষকে। কারণ, দু’বার নিজেদের জালেই বল জড়ান চেলসি প্লেয়াররা।

ম্যাচের একেবারে শুরুতেই একটি গোল হোম টিমের কাছ থেকে উপহার পায় আয়াক্স। ম্যাচের ২ মিনিটে আব্রাহামের পা ছোঁয়া বল চেলসির জালে জড়িয়ে যায়। তাঁর আত্মঘাতী গোল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজকে মুহূর্তে নিস্তব্ধ করে দেয়। যদিও খুব বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখা সম্ভব হয়নি আয়াক্সের পক্ষে। ৩ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পেয়ে যায় চেলসি। স্পট কিক থেকে গোল করে দ্য ব্লুজদের সমতায় ফেরান জোরগিনহো।

১৩ মিনিটের মাথায় আয়াক্সের জালে বল জড়ান আব্রাহাম। সহকারী রেফারি পতাকা তুলে অফসাইডের সিদ্ধান্ত জানালে বাতিল হয় গোল। ২০ মিনিটে আয়াক্সকে পুনরায় লিড এনে দেন প্রমেস। জিয়েচের পাস থেকে গোল করেন তিনি। ৩৫ মিনিটে কেপার ভুলে আবার নিজেদের জালে বল জড়ায় চেলসি।

৫৫ মিনিটে জিয়েচের পাস থেকেই গোল করেন আয়াক্সের ভ্যান ডি বীক। ৬৩ মিনিটে আব্রাহামের পাস থেকে গোল করেন অ্যাপিলিকুয়েতা। চেলসি ব্যবধান কমিয়ে স্কোরলাইন ৪-২ করে। ৬৮ মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয় বার হলুদ কার্ড দেখেন ব্লাইন্ড। রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। ৬৯ মিনিটে দ্বিতীয় বার হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ভেল্টম্যান। এক মিনিটের ব্যবধানে দু’জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখায় আয়াক্স ম্যাচের বাকি সময়টা ৯ জনে খেলতে বাধ্য হয়। এই সুযোগটাই যথাযথ কাজে লাগায় চেলসি।

৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন জোরগিনহো। ৭৪ মিনিটে জেমসের গোলে ম্যাচে ৪-৪ সমতা ফেরায় চেলসি। ৭৮ মিনিটে অ্যাপিলিকুয়েতা গোল করলে উৎসবে মাতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ। যদিও রেফারি ভিএআরের সাহায্যে নিয়ে গোল বাতিল করেন। ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল দাঁড়ায় ৪-৪।