সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: গায়ে কালো চাকা চাকা ছোপ। উত্তরবঙ্গের (north bengal) চা বাগানে (tea garden) প্রায়ই হানা দেয়। মানুষ বলে চিতায় হানা দিয়েছে। এক্কেবারে ভুল কথা। ওগুলি লেপার্ড (leopard)। ইংরেজরা ভারত ছেড়েছে আর তার সঙ্গে এ দেশ কখন যে ছেড়ে চলে গিয়েছে চিতার দল তা বোঝা যায়নি। ৭০ বছর পর ভারতের মাটিতে ফিরবে অসলি চিতা (cheetah)। দুই বাঙালির (bengali) হাত ধরেই তা হতে চলেছে।

ভারতীয় বন জঙ্গলের ইকো সিস্টেমকে ভারসাম্য দিতেই এই কাজ করা হবে। জানা গিয়েছে করোনা, তার জেরে লকডাউন, নানারকম স্ট্রেন, একের পর এক ঢেউ এসবের ঝক্কি কম থাকলে এই বছরের শেষের দিকে আফ্রিকা থেকে ভারতে আনা হবে, ১৪টি চিতা। সাত দশক আগে ভারতের জঙ্গলে চিতার খোঁজ মিলত। তারপর তা উধাও হয় অগোচরেই। তাদের ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের বন বিভাগ। সেই দলে কাজ করছে দুই বাঙালি। যারা চিতা ভারতের জঙ্গলে ফেরাতে দিন রাত এক করে কাজ করছেন।

ঠিক ছিল একুশের শুরুতেই আসবে ১৪ চিতার পাল। হয়নি দ্বিতীয় ঢেউ ভয়ঙ্কর আকার রূপ নেওয়ায়। আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা ঠিকঠাক হয়েছে। তাই চিতাদের দেশে নিয়ে আসার কাজ আবারও দ্রুত শুরু হয়েছে।

চিতা রিইনট্রোডাকশনের গবেষক কথন বন্দ্যোপাধ্যায় ও মৌলিক সরকার। তাঁরা এই নিয়ে কাজ করছেন।
এঁরা দুজনেই দেরাদুনের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার গবেষক। কথন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘চিতা ফেরানো হবে মধ্যপ্রদেশের তিনটি জঙ্গলে। এখানকার পরিবেশ চিতার জন্য সবথেকে ভালো। এদের রাখা হবে কুনো, গান্ধীসাগর ও নওরাদেহি জাতীয় উদ্যানে। এদের মধ্যে কুনো ওদের জন্য সবথেকে ভালো স্থান। বাকী গুলিতে ধীরে ধীরে রাখা হবে তাদের।’

কথন বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, ‘কুনোয় এনক্লোজার দিয়ে ফেন্সিংয়ের কাজ চলছে। এখানে চিতা পাবে চিতল হরিণ ও ব্ল্যাক বাক। এটা চিতা খেতে পছন্দ করে তাই তাদের সমস্যা হবার কথা নয় বলেই মনে করছি আমরা। বাকি স্থানগুলি ওদের থাকার জন্য আরও যোগ্য করে তোলার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে’

চিতা ফেরানোর কাজ ১৯৭০ থেকে শুরু হয়েছিল। তবে সবই চলেছে ঢিমেতালে। গত বছর থেকে এই কাজে বেগ এসেছে এবং তা কার্যকর হতে চলেছে। জানা গিয়েছে আগে ঠিক হয়েছিল ইরান থেকে আনা হবে চিতা। কিন্তু সে দেশেও চিতা কমে গিয়েছিল। তাছাড়া সে দেশ চিতার বদলে সিংহ চেয়েছিল যা ভারত দিতে চায়নি। শেষে ঠিক হয় আফ্রিকা। পূর্ব আফ্রিকায় চিতার সঙ্গে এশিয়াটিক চিতার জিনের মিল রয়েছে। তাই ভারতে এলে তারা তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করেন গবেষকরা। চিতার সংখ্যাতেও সেখানে কোনও ঘাটতি নেই। সুপ্রিম কোর্টের ছাড়পত্র মেলে। তারপর চিতা নিয়ে আসার কাজ দ্রুত এগোয়। এখন যা শেষ ধাপে। শুধু তাদের নিয়ে আসার কাজটাই বাকি।

চিতা শেষ হয়েছিল কীভাবে। জানা যায় ভারতে আগে ভালো পরিমাণ চিতা ছিল। চোরাশিকার করে করে তা শেষ হয়। তা না হলে এক সময় রাজস্থান, গুজরাট, বিহার, কর্নাটক, তামিলনাডুর জঙ্গলে বহাল তবিয়তে থাকত চিতার দল। শেষের ইতিহাসও অদ্ভুত। ১৯৪৭ সাল। মহারাজা রামানুজ প্রতাপ সিং লেপার্ড ভেবে শিকার করেন তিন তিনটি চিতা। দুর্ভাগ্যক্রমে সেগুলিই নাকি ছিল শেষ তিন চিতা। ১৯৫২ সালে যা সরকারি শিলমোহর পায়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.