স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: পরীক্ষায় টুকলি করতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে পেটাল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা৷ ভাঙচুর চালানো হল পরীক্ষা কেন্দ্রে৷

বুধবার জলপাইগুড়ির মুদিপাড়া নগেন্দ্রনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়৷ বিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আহত হয়েছেন দু’জন শিক্ষক৷ তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷  

এই বছর মুদিপাড়া নগেন্দ্রনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে ৩২৪ জন ছাত্রছাত্রীর মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছে৷ এদিন সকালে পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে বিদ্যালয়ের গেট খোলা হয়৷ গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার্থীরা হুড়োহুড়ি করে ভিতরে ঢুকে পড়ে৷ শিক্ষকরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছাত্ররা তাণ্ডব শুরু করে দেয় বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ৷ ভাঙা হয় বিদ্যালয়ের চেয়ার টেবিল, জানলা, দরজা এবং বাথরুমের বেসিন৷  শিক্ষকরা বাঁধা দিতে গেলে তাঁদেরকে ধাক্কা মেরে সড়িয়ে দেয় ছাত্ররা৷ ধাক্কাধাক্কির জেরে পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পান বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক বাবুলাল দাস। চোট লাগে বিদ্যালয়ের অপর দুই শিক্ষক রমেশ চন্দ্র রায় এবং সন্দীপ চৌধুরীর৷ তাঁদের তিন জনকেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়৷

সহকারি প্রধান শিক্ষক বাবুলাল দাস বলেন, বিদ্যালয়ের গেট খোলার পরেই হুড়োহুড়ি করে ছাত্ররা বিদ্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। আমরা বাঁধা দিতে গেলে আমাদের ধাক্কা মারা হয়৷ কি কারণে ছাত্ররা এই ঘটনা ঘটালো বুঝতে পারছি না। তবে এদিন বিদ্যালয়ের বাথরুম এবং মাঠ থেকে প্রচুর টুকলির কাগজ পাওয়া গিয়েছে৷ প্রতিদিন প্রচুর টুকলি ধরছেন এবং নকল করতে বাধা দিচ্ছেন শিক্ষকরা৷ এই বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ না করলেও, নকলে বাঁধা দেওয়ার কারণেই ভাঙচুর করা হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ৷

 

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প