শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: প্রেস স্টিকার ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল ও অপহরণ চক্রের হদিশ পেলো পুলিশ। চক্রের মূল পান্ডা সহ তিন জনকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতারও করেছে।

অভিযুক্তদের তিন জনেরই জামিনের আবেদন নাকচ করে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুরঘাট থানার পতিরাম এলাকার বাসিন্দা জয়প্রকাশ সরকার যিনি নিজেকে সোনার কারবারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। শুধু তাই নয় তার এই কারবারে যাতে কোনওরূপ বাধার সৃষ্টি না হয় তার জন্য ঢাল হিসেবে তিনি একটি পত্রিকা প্রকাশ করে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন।

সাংবাদিক পরিচয়ে একাধিক গাড়িতে প্রেস স্টিকার লাগিয়ে দক্ষিণের ভিন রাজ্যেও যাতায়াত করতেন বলে অভিযোগ। জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের দুই সংগঠন দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্টস ক্লাব ও জেলা প্রেস ক্লাবের তরফে জয়প্রকাশ সরকার ও তার সাগরেদদের বিরুদ্ধে ভুয়ো সাংবাদিকতা ও প্রেস স্টিকারের অপব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছিল। এর পরেই পুলিশ তদন্তে নামে।

সোমবার রাতে বালুরঘাট থানার পুলিশ পারপতিরাম এলাকা থেকে জয়প্রকাশ সরকার সহ চক্রের মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। জয়প্রকাশ সরকার ও তার সাগরেদরা ভিন রাজ্যের চার ব্যক্তিকে এলাকার একটি কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় আটকে রেখে তাঁদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করছিলো।

গোপন সূত্রে এই খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপহৃত ভিনরাজ্যের চারজনকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত জয়প্রকাশ সরকার সহ মোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার দেবর্ষী দত্ত জানিয়েছেন, সোমবার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পাই যে অতি সামান্য সুদে টাকা ধার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী রাজ্য বিহার থেকে চারজনকে ডেকে আনে জয়প্রকাশ সরকার ও তার লোকেরা।

পতিরামে একটি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের আটকে রেখে পরিবারের কাছে ফোন করে মোটা টাকার মুক্তিপণ দাবিও করা হয়। খবর পেয়েই পুলিশ সেখানে পৌঁছে অপহৃতদের উদ্ধার করে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জয়প্রকাশ সরকার সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত তিন জনের বিরুদ্ধে আইপিসি ৪২০ ও ১২০-এ সহ আরও বেশ কিছু ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ধৃতদের বিরুদ্ধে শুধু অপহরণ করাই নয় চাকরি দেওয়ার নাম করেও অনেকের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে।চক্রের বাকিদের ধরতে তিনজনকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। পাশপাশি বেআইনি আরও কি কি কারবারের সাথে ধৃতরা যুক্ত সেব্যাপারে জানতেও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প