মন্দার আঁচ লেগেছে দেশে৷ ফলে আবাসন নির্মাণ শিল্পের অবস্থাটা ভাল নয়৷ যতই মোদী সরকার দেশবাসীকে বাড়ি দেওয়ার লক্ষ্যে সস্তার আবাসনকে অগ্রাধিকার দিক না কেন বাস্তব চিত্রটা কপালে ভাজ ফেলার মতোই৷ তাই সম্পত্তি ব্রোকারেজ সংস্থা প্রপটাইগার-এর দেওয়া সমীক্ষা রিপোর্ট জানাচ্ছে, গোটা দেশেই ক্রেতার অভাব দেখা গিয়েছে সস্তার আবাসনেও৷

কলকাতা সহ দেশের প্রথম ৯টি শহরে ক্রেতার অভাবে প্রায় ৪ লক্ষ ১২ হাজার সস্তার আবাসন অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তবে যদি মোট অবিক্রিত আবাসনের সংখ্যাটা দেখা যায় তাহলে রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই নয়টি শহরে অবিক্রিত রয়েছে ৭,৯৭,৬২৩টি ইউনিট৷ সেক্ষেত্রে সস্তার আবাসনের সংখ্যা ধরা হচ্ছে মোট ফ্ল্যাটের প্রায় ৫২ শতাংশ৷

কলকাতাতে এমন সস্তার ফ্ল্যাটের সংখ্যা ৩০,৯২৩টি৷ রিপোর্ট অনুসারে অবিক্রিত আবাসনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মুম্বই যেখানে এমন ১,৩৯,৯৮৪টি ফ্ল্যাট পড়ে রয়েছে৷ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পুণে, সেখানে অবিক্রিত আবাসনের সংখ্যাটা হল ৯৮,৩৭৮টি ইউনিট। মোটের উপর ৪৫ লক্ষ টাকার মধ্যে দামের আবাসনকে সস্তার বলে ধরা হয়েছে৷

তালিকায় থাকা সবেচেয়ে কম অবিক্রিত সস্তার ফ্ল্যাট রয়েছে হায়দরাবাদে, সেখানে এই সংখ্যাটা হল ৪,৮৮১টি ইউনিট।পাশাপাশি দেখা গিয়েছে আমেদাবাদ, নয়ডা, গুরুগ্রাম, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইতে এই অবিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যাটি যথাক্রমে ৪১,৭৯১, ৩৫,৮১১, ২২,৩০৭, ২০,১৪৬ এবং ১৮,৭০৯।

তবে প্রপটাইগার কর্তাদের অভিমত, গৃহঋণে সুদের উপর আয়কর ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা কেন্দ্র ২ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা করায় এবার আশা করা হচ্ছে সস্তার আবাসন কেনার প্রবণতা বাড়বে৷ তবে আপাতত নতুন সস্তার আবাসন প্রকল্প নির্মাণ তেমন হবে না বলেই মনে করছেন৷ কারণ পুরনো প্রকল্পের কাজ শেষ করতে এবং অবিক্রিত ফ্ল্যাট বিক্রির দিকে নির্মাণ সংস্থাগুলি জোড় দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷