ফাইল ছবি৷

রায়পুর: বিজেপি বিধায়ককে খুন এক ষড়যন্ত্র৷ এমনই দাবি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের৷ শুক্রবার ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলার কাছে তাঁর দাবি এই ঘটনার জন্য সিবিআই তদন্ত হোক৷ এরই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ যদি না রাজ্য সরকারের কিছু না কিছু গোপন করার থাকে, তবে সিবিআই তদন্তের অনুমতি দিতেই পারে ছত্তিশগড় সরকার৷

ছত্তিশগড়ে এক জনসভায় এদিন অমিত শাহ বলেন বিজেপি বিধায়ক ভীমা মাণ্ডবীর মৃত্যুর সিবিআই তদন্ত হোক৷ কারণ বিজেপি মনে করে এই খুন একটি ষড়যন্ত্র৷ উল্লেখ্য ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস সরকার গঠন করার পর থেকেই সিবিআইয়ের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ সেই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেই অমিত শাহ বলেন রাজ্য সরকারের কিছু গোপন করার রয়েছে, তাই সিবিআইকে ভয়৷ তবে এই ষড়যন্ত্রের তদন্ত সিবিআইয়ের করা উচিত৷ আসল সত্য সামনে আসবে৷

আরও পড়ুন : ব্ল্যাক হোলও দেখা গেল, কিন্তু আচ্ছে দিন এল না : অখিলেশ যাদব

এদিন রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীকেও কটাক্ষ করেন বিজেপি সভাপতি৷ তিনি বলেন শুধু শ্লোগান রাজ্যে উন্নয়ন আনতে পারবে না৷ এজন্য দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতি ও সাধারণ মানুষের জন্য বালবাসা থাকতে হয়৷ তবেই একমাত্র রাজ্যে উন্নয়ন আনা সম্ভব৷

তিনি আরও বলেন, যে ১০ বছরে ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় ছিল, সেই সময়ে দেশের কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা সাধারণ মানুষ দেখেছেন৷ দুর্নীতি আর অরাজকতার সময় কাটিয়েছেন মানুষ৷ মোদী সরকারের হাত ধরে দেশে সুশাসন ফিরেছে৷ পাকিস্তানকে মুখের ওপর জবাব দিয়েছে ভারত৷ বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের কথাও এদিন উল্লেখ করেন শাহ৷ বলেন আমাদের বিদেশনীতি স্পষ্ট৷ কেউ আক্রমণ করলে, তাঁকে গুঁড়িয়ে দিয়ে জবাব দাও৷

আরও পড়ুন : স্বামী’র ঢেকে রাখা নাম খুলে দিলেন বিজেপি প্রার্থী’র স্ত্রী

উল্লেখ্য লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের আগেই রক্তাক্ত হয় ছত্তিসগঢ়ের দান্তেওয়াড়া। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মাওবাদী উপদ্রুত এলাকা বস্তারে ভোট গ্রহণ ছিল। মঙ্গলবার ছিল প্রচারের শেষ দিন। সেই জন্যই নিরাপত্তাবাহিনীর বিশাল কনভয়ে প্রচারের কাজ করছিলেন দান্তেওয়াড়ার বিজেপি বিধায়ক ভীমা মান্ডবি। মিছিলে হামলা চালায় মাওবাদীরা। তাতেই নিহত হন বিধায়ক সহ বাকিরা৷

এর পরেই প্রশ্ন ওঠে নিরাপত্তা নিয়ে৷ অন্যদিকে দান্তেওয়াড়া পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি ভয়াবহ সেটা আগেই জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু বিধায়ক সেই কথা উড়িয়ে দিয়েছিলেন৷

দান্তেওয়াড়া জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক পল্লব জানান, বিধায়ক ভীমা মান্ডবীকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল৷ তাঁকে বলা হয়েছিল, মিছিল না করতে৷ তবুও তিনি মিছিল নিয়ে গিয়েছিলেন৷ তার পরেই হামলা হয়৷ পুলিশ জানিয়েছে, কুয়াকোন্ডা এলাকার শ্যামগিরিতে এই বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা৷ এর পরেই তারা গুলি চালাতে শুরু করে৷