পুরী: ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি ওড়িশা৷ রবিবার উল্টো রথের দিনেই হল বিপত্তি৷ হাঁটু জলে ডুবে গেল তিন সৌখিন রথের চাকা৷ রবিবাসরী সকালেই ঘটল অঘটন৷ পুরীর গুন্ডিচা মন্দির থেকে শ্রীমনন্দির ফেরার পথে ডুবল রথের চাকা৷

উল্টো রথেও সাজো সাজো পুরী৷ নানারকম ধার্মিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীমন্দিরে ফেরে জগন্নাথ, বলরাম, শুভদ্রার ৩ রথ৷ ‘বাহুলা যাত্রা ’ নামে পরিচিত এই ধার্মিক অনুষ্ঠানে ভক্তদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতই৷ সোনার ঝালরে বরন থেকে প্রসাদ বিতরণ, সবমিলিয়ে দীর্ঘ ধার্মিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উল্টো রথ উদযাপিত হয়৷ সেই অনুষ্ঠা বাঁধ সাধে চাকা উল্টে যাওয়ার ঘটনা৷ মূলত ভারী বৃষ্টির জেরে ওড়িশার বিস্তৃত অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি৷ বৃষ্টি না কমায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে৷

ভারী বৃষ্টিতে কটক,ভুবনেশ্বরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন৷ ওড়িশার গ্র্যান্ড রোড পুরোপুরি জলমগ্ন৷ সেই সড়কেই আটকে পড়ে উল্টো রথ যাত্রা৷ সড়কের জলমগ্ন গর্তে ঢুকে পরে চাকা৷ চাকা তোলা গেলেও ‘বাহুলা যাত্রা’ দেরিতে শেষ হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ দুপুর আড়াইটের সময় ‘বাহুলা যাত্রা’ শেষ হওয়ার কথা৷

তারপরেই শ্রীমন্দিরে ৩টি রথ অবস্থান নেবে৷ রথযাত্রা বিঘ্নিত হওয়ার খবরে উদ্বীগ্ন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক৷ আধিকারিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠতে তিনি বসেন৷ প্রত্যক জেলায় কন্ট্রোলরুম খোলার কথা বলেন৷ বন্যাবিধ্বস্ত এলাকার নজরদারিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কন্ট্রোল রুম খোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷

রথের চাকা জলে ডুবে যাওয়ায় বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন ভক্তরা৷ যে সময়ে রথের চাকা ডুবে যায়, সেই সময় রথের দড়ি ধরেছিলেন কয়েরশো ভক্ত৷ কোনওরকমে ভক্তরা নিজেদের সামলে নেন৷ দুর্ঘটনার পরই তৎপরতার সঙ্গে উল্টো রথ যাত্রা সামলাল ওড়িশা প্রশাসন৷