স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বহিরাগতের সঙ্গে ছাত্রাবাসে গাঁজা এবং মদ্যপানের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের তিন নেতার বিরুদ্ধে৷অভিযুক্ত ওই নেতাদের মধ্যে একজন আবার রাজ্যের এক মন্ত্রীর ছেলে৷শুধু তাই নয়৷বহিরাগতদের সঙ্গে ওই ছাত্রনেতারা ছাত্রাবাসের দু’জন আবাসিককে গালিগালাজ সহ মারধর এমনকী প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ৷শুক্রবার গভীর রাতের এই ঘটনা এসএসেকএম হাসপাতাল তথা কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইপিজিএমইআর)-এর৷ এই ঘটনায় ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷
এই ঘটনার জেরে আগামী সোমবার হস্টেল কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে৷অভিযুক্ত ওই ছাত্রনেতাদের মধ্যে একজনের আর ছাত্রাবাসে থাকার কোনও এক্তিয়ার নেই৷ তা সত্ত্বেও তিনি ছাত্রাবাসে থাকেন বলে অভিযোগ৷এ দিকে, ওই ছাত্রনেতার নাম এখনও গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে রয়েছে কলকাতার আইপিজিএমইআরের ওয়েবসাইটে৷তবে, ওই ছাত্রনেতা যে এখন আর ছাত্রাবাসের আবাসিক নন, তার প্রমাণ মিলেছে শনিবার কর্তৃপক্ষের একটি চিঠিতেও৷ আগামী সোমবারের জরুরি বৈঠকের বিষয়টি অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তদের জানানো হয়েছে৷ কিন্তু, ওই চিঠিতে ওই ছাত্রনেতার নাম এবং বহিরাগতের কোনও উল্লেখ নেই৷
কলকাতার আইপিজিএমইআরের মেইন বয়েজ হস্টেলের দুই ছাত্রের অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের তিন ছাত্রনেতা এবং একজন বহিরাগত মদ্যপান করে তাঁদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন৷তাঁদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন৷ অভিযোগ, বহিরাগত ওই ব্যক্তি হাসপাতালের দালালচক্রের সঙ্গে যুক্ত৷যদিও, তিনি হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী৷কয়েক মাস আগে এসএসকেএম হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দুই দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ ওই দুই দালাল এই চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর আত্মীয় বলে সেই সময় জানা গিয়েছিল৷
কলকাতার আইপিজিএমইআর সূত্রের খবর, অভিযুক্ত তিন ছাত্রনেতার মধ্যে এখন আর ছাত্রাবাসে থাকার কোনও এক্তিয়ার নেই একজনের৷ কারণ, গত ১৫ জুলাই তাঁর হাউসস্টাফশিপ শেষ হয়ে গিয়েছে৷কাজেই, সেদিক থেকে তিনিও এখন ছাত্রাবাসের ‘বহিরাগত’৷ তা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে ছাত্রাবাসের ঘর আটকে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে৷তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওই ছাত্রনেতা বলেন, ‘অভিযোগ ভিত্তিহীন৷ একতরফা অভিযোগ হয়েছে৷অভিযোগকরীরা রাজনীতি করছেন৷’ অন্যদিকে, অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে৷pg.complain
শুক্রবার গভীর রাতে মেইন বয়েজ হস্টেলের ৬১৬ নম্বর ঘরে অভিযুক্তরা মদ্যপান করেন বলে অভিযোগ৷ তাঁরা গাঁজাও সেবন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷ এ দিকে, ওই হস্টেলের ৬১৭ নম্বর ঘরে ছিলেন অভিযোগকারী ওই দুই ছাত্র৷ওই ৬১৬ নম্বর ঘরে প্রায়ই বহিরাগতদের নিয়ে মদ্যপানের আসর বসে বলেও অভিযোগ উঠেছে৷এ জন্য ছাত্রাবাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে৷ অথচ এ সব বিষয়ে নির্বিকার কর্তৃপক্ষ৷শুক্রবারের ঘটনার পর বিষয়টি জানানো হয় হস্টেল সুপার রাজীব মণ্ডলকে৷ ওই রাতেই তিনি ঘটনাস্থলে যান৷খবর পেয়ে যায় পুলিশও৷এ প্রসঙ্গে হস্টেল সুপার বলেন, ‘এই অভিযোগের বিষয়ে আগামী সোমবার হস্টেল কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে৷’ এ দিকে, মেইন বয়েজ হস্টেলের কোন ঘরে কার থাকার অনুমতি রয়েছে, তা জানতে গত সপ্তাহে পরিদর্শন করেছে কর্তৃপক্ষ৷

——————————————————————————————————-