হরিদ্বার: চার ধাম যাত্রার সূচনাকালে খুলে গেল কেদারনাথ মন্দিরের দরজা৷ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ কেদারনাথ মন্দিরের দরজা দর্শানার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়৷ বন্ধ দরজার এদিকে অপেক্ষা করছিলেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী৷ দরজা খুলতেই লাইন দিয়ে বিগ্রহ দর্শন করেন তাঁরা৷

ছয় মাস পরে কেদারনাথ মন্দিরের দরজা খুলে গেল৷ গোটা মন্দিরকে ফুল ও আলোর মালায় সাজানো হয়েছে৷ অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষ্যে গঙ্গোত্রী মন্দিরের দরজা খোলা হয়৷ সকাল সাড়ে এগারোটায় খুলে যায় গঙ্গোত্রী৷ সেদিনই যমুনোত্রীর দ্বার খুলে দেওয়া হয় ১টা ১৫ মিনিটে৷ সেখানেও অপেক্ষা করছিলেন সহস্রাধিক পুণ্যার্থী৷ প্রশাসন মনে করছে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম হবে এই চার ধাম যাত্রায়৷

তবে বদ্রীনাথ এখনও খোলেনি৷ শুক্রবার অর্থাৎ ১০ই মে সকলের জন্য খুলে যাবে বদ্রীনাথের দরজা৷ প্রতিবছর অক্টোবর – নভেম্বর মাসে ভারি তুষারপাতের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় এই পবিত্র তীর্থস্থানগুলি৷ ফের এপ্রিল মে মাসে যাত্রী ও পুণ্যার্থীদের জন্য তীর্থস্থানের দ্বার খোলা হয়৷

গতবছরই অসময়ের ভারি তুষারপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে উত্তরাখণ্ড৷ কেদারনাথ-বদ্রীনাথ-হেমকুন্ড সাহেব-সহ উত্তরাখণ্ডের উঁচু এলাকাগুলিতে তুষারপাত শুরু হয়। এর ফলে কেদার এবং বদ্রীতে আটকে পড়েন অসংখ্য তীর্থযাত্রী। এই ঘটনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়। বহু তীর্থযাত্রী আটকে পড়েন। যোশি মঠের কাছে ধসে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়৷ আবহাওয়া পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই রাস্তাতেও যাত্রা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় স্থানীয় প্রশাসন।

তবে শুধু কেদার-বদ্রী নয়, তুষারপাত হয় হিমাচল প্রদেশের লাহুল-স্পিতিতেও। এদিকে, উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় ধুলোঝড়। দফায় দফায় হয় ঝোড়ো বৃষ্টি৷

ছয় বছর আগের এক বন্যা একটা ধর্মস্থানকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পুরোটা পারেনি। মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শত শত মৃতদেহের উপরেই মানুষ তৈরি করেছে আরও এক নতুন সভ্যতা।

২০১৩ সালের বন্যা ও ধস কেদারনাথে কেড়ে নিয়েছিল কয়েক হাজার প্রান। অনেকেই খুঁজে পাননি নিজের প্রিয়জনকে। এবার সেই স্মৃতি উগরে দিচ্ছে কেদার। পুলিশ সূত্রে খবর, টানা তিন দিন খোঁজাখুজির পর হিমালয়ের এক পবিত্র তীর্থস্থান থেকে প্রায় ২১টি কঙ্কাল এবং ৪ টি খুলি উদ্ধার করেন তারা।