রিও ডি জেনেইরো: দীর্ঘ লড়াই। মাঠে ফেরার জন্য চেষ্টার কোনও ত্রুটি ছিল না। কিন্তু যন্ত্রণা হয়তো কখনও কখনও সুখ বা আনন্দের চেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয়। তাই ইচ্ছে থাকলেও আর মাঠে ফেরা হল না। বুটজোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় জীবিত শাপেকোয়েন্স ফুটবল ক্লাবের ডিফেন্ডার নেতো।

২০১৬ কোপা সুদামেরিকানা ফাইনালের প্রথম লেগ খেলতে কলম্বিয়া উড়ে যাচ্ছিল ব্রাজিলের শাপেকোয়েন্স ফুটবল দল। কিন্তু মাঝপথে ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনায় ফাইনালে আর অংশগ্রহণ করা হয়ে ওঠেনি শাপেকোয়েন্সের। ফুটবলার, ফুটবল কর্তা, সাংবাদিক সহ বিমানে উপস্থিত ৭১ জন ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে। তিন ফুটবলার সহ ছয়জন মৃত্যুকে জয় করে ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনে। তাঁর মধ্যে একজন নেতো। দু’বছর রিহ্যাবের মধ্যে থেকে মাঠে ফেরার জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছেন নেতো। কিন্তু অবশেষে নিয়েই নিলেন কঠিন সিদ্ধান্তটা।

চিকিৎসকের পরামর্শমতোই ফুটবল কেরিয়ারে ইতি টানলেন নেতো। বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে আসা নেতোর সতীর্থ গোলরক্ষক জ্যাকসন ফোলম্যান ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আগেই। এবার তাঁর পদাঙ্কই অনুসরণ করতে বাধ্য হলেন নেতো। তবে আরেক জীবিত ফুটবলার অ্যালান রুসচেল খেলছেন প্রথম ডিভিশন একটি ক্লাবে। দেশের একটি স্পোর্টস সংবাদমাধ্যমকে নেতো জানিয়েছেন, ‘আমি কেরিয়ারে ইতি টানছি। চিকিৎসকদের পরামর্শমতোই সবকিছু হচ্ছে।’ নেতোর কথায় তিনি একটি ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন ক্লাবের হয়ে, কিন্তু না। ৪ ডিসেম্বর সিএসএ’র বিরুদ্ধে ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলার জন্য আমাকে আমন্ত্রণও জানিয়েছিল ক্লাব। কিন্তু আমি পারিনি।’

এপ্রসঙ্গে নেতো জানিয়েছেন ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়ার পর আপাতত আমি সুস্থ। প্রাত্যহিক জীবনে আমার শরীরে তেমন কোনও যন্ত্রণা নেই। কিন্তু বেশি সময় অনুশীলনের ধকল শরীর নিতে পারে না। হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব হয় এবং পিঠের ব্যথা আমাকে কাবু করে তোলে। কখনও কখনও যন্ত্রণা হয়তো আনন্দের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দেয়। সেকারণেই আমার খেলা ছাড়ার সিদ্ধান্ত।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ফুটবলার ও বাকিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেবারের কোপা সুদামেরিকানা ট্রফি শাপেকোয়েন্স ফুটবল ক্লাবকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।