ফাইল ছবি।

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে ভরতির জট কাটল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতির বৈঠক ছিল সোমবার। এই বৈঠকে উঠে আসে ভরতি প্রক্রিয়া নিয়ে দানা বাধা বিতর্কের বিষয়টি। মুশকিল আসানের জন্যই মুলত এদিন কর্মসমিতি বৈঠক বসে। যে দু’টি বিষয় নিয়ে জটিলতা, সেই ইংরেজি ও তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ইংরাজি ও তুলনামূলক সাহিত্য এই দুটি বিভাগ কর্ম সমিতির বৈঠকে সহমত পোষণ করেন নি। তাই বিষয়টি বিবেচনার জন্য তা আবার অ্যাডমিশন কমিটির কাছেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এই মাসেই কলা বিভাগের ভরতি নিয়ে কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতবারের নিয়মানুসারেই এবারের ভরতি প্রক্রিয়া চলবে। এই নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক লেগে ছিল। গত বছর ইতিহাস বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। কয়েক মাস আগেই ওই কমিটি রিপোর্ট পেশ করে। সেই রিপোর্টে বলা হয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হলে ৫০% প্রবেশিকা পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে এবং ৫০% উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা তৎ সমতুল্য বোর্ডের প্রাপ্ত ৫০% নম্বরের ভিত্তিতে ভরতি নেওয়া হবে। এটাই ছিল গত বছরের ভরতি প্রক্রিয়ার নিয়ম। এ বছর ইংরাজি ও তুলনামুলক সাহিত্য বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে জট বাঁধে।

ইংরেজি ও তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ শুধু প্রবেশিকার ভিত্তিতে ভর্তি নিতে চায়। কর্ম সমিতির বৈঠকেও তাঁরা সহমত পোষণ করেন নি। তাদের সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে কর্মসমিতি। সেক্ষেত্রে ইংরেজি আর তুলনামূলক সাহিত্যে ভর্তি নেওয়া হবে শুধু প্রবেশিকা পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে এমনটা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে সুত্র মারফৎ।

উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এই নিয়ে বারবার বৈঠক করেছেন এই দুটি বিভাগের জট মেটাতে। এই সিদ্ধান্তের পরে তিনি কলা বিভাগের ডিন এবং ইংরেজি ও তুলনামূলক সাহিত্যের শিক্ষকদের ডেকে কথা বলেন। এদিন কর্মসমিতির বৈঠকে ফের বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে ইংরেজি ও তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগকে। বৈঠকের পরে রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু বলেন, ‘‘ অন্যান্য বিভাগ যেভাবে প্রবেশিকা থেকে ৫০ শতাংশ এবং স্কুলের সর্বশেষ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৫০ শতাংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইংরেজি এবং তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগকে সেই নীতি অনুসরণের কথাই বলা হয়েছে। ’’রেজিস্ট্রার জানান, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ভর্তি কমিটিরই। তাই বিষয়টিকে আবার কলা বিভাগের ভর্তি কমিটিতে ফেরানো হয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সেন্টার ও স্কুল পরিচালিত পাঠ্যক্রমে অর্থের বিনিময়ে ফল প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টিতে জড়িয়ে গিয়েছে পরীক্ষা নিয়ামক বিভাগের নাম। রেজিস্ট্রার এদিন জানান, কর্মসমিতির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরীক্ষা নিয়ামক সাত্যকি ভট্টাচার্যকে আপাতত ছুটিতে যেতে বলা হবে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এদিন একটি কমিটি তৈরি গড়া হয়েছে। সেই কমিটিতে থাকবেন প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব চট্টোপাধ্যায়, গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক অজিতাভ রায়চৌধুরী।

পদার্থবিদ্যা ও গণিত বিভাগ চায় প্রবেশিকা ও স্কুল স্তরের সর্বশেষ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের যোগফলের ভিত্তিতেই ভর্তি হোক স্নাতক স্তরে। এই বিষয়ে আগে বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি কমিটিতে আলোচনা হওয়ার কথা।